কেরলে অস্বাভাবিক মৃত্যু চাঁচলের শ্রমিকের

320

চাঁচল: কেরলের কোল্লাম জেলায় কাজে গিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যু হল চাঁচলের এক পরিযায়ী শ্রমিকের। মৃতের নাম মুনিরুল ইসলাম(৩৪)। মালদা জেলার চাঁচল-২ ব্লকের চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের খানপুরের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, তিনি রবিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যান। মনিরুলের শ্যালক সামিম আখতার ও গ্রামের এক আত্মীয় সাইদুর রহমান এক সঙ্গেই থাকতেন। তাঁরা তড়িঘড়ি মনিরুলকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই চিকিৎসকরা মনিরুলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের পর দেহ সেখান থেকে আনা হবে।

পারিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চার ভাই, তিন বোনের মধ্যে পরিবারের সেজো ছেলে মনিরুল ইসলাম। পেশায় দিনমজুর বাবা মহম্মদ জাকারিয়া তিন বছর আগেই মারা যান। মা মমেদা বেওয়া গৃহবধূ। মনিরুল ইসলাম বিবাহিত। স্ত্রী পারভিনা বিবি(৩০)। তাঁদের তিন নাবালক পুত্র সন্তানও রয়েছে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় প্রায় আট মাস আগে কেরলে রাজমিস্ত্রির কাজে গিয়েছিলেন। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের স্ত্রী পারভিনা বলেন, ‘স্বামী ফোনে জানিয়েছিলেন কয়েকদিন থেকে শরীরটা খুব একটা ভালো ছিল না। হালকা অসুস্থ অনুভব করছিলেন তিনি। তাই তিনদিন কাজে যান নি।’

- Advertisement -

মিমের জেলা আহ্বায়ক তথা খানপুর গ্রামের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক মতিউর রহমান বলেন, ‘খবর পাওয়া মাত্রই মনিরুলের বাড়িতে যান। বিমানে দেহ আনার সবরকম চেষ্টা তিনি করছেন। আশা করছি বুধবার নাগাদ মনিরুলের কফিনবন্দি দেহ বাড়িতে পৌঁছে যাবে। অসহায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন মনিরুল। জমি জায়গাও নেই। তাই সরকারি ও বেসরকারিভাবে পরিবারটির জন্য আর্থিক সাহায্য দরকার।’

চাঁচল-২ বিডিও দিব্যজোতি দাস বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার যাতে জাতীয় পরিবার সহায়তা প্রকল্পের আর্থিক অনুদান খুব শীঘ্রই পান তার ব্যবস্থা করা হবে। এদিকে ওই অসহায় পরিবারটির জন্য একটি আবাস যোজনার পাকা ঘর করে দেওয়ার কথাও ভাবা হবে। মালতীপুরের বিধায়ক আব্দুর রহিম বকসি ও খানপুরের মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের অসহায় পরিবারটিকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।