হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু, দেহ নিতে অস্বীকার পরিবারের

380
ফাইল ছবি

রায়গঞ্জ: শনিবার রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল। ওই পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানানো হলেও মৃতদেহ নিতে অস্বীকার করে পরিবার পরিজনেরা।

পরিবারের দাবি, সম্ভবত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন ওই ব্যক্তি, তাই দেহ নেওয়া সম্ভব নয়। মৃতের বাড়ি কালিয়াগঞ্জ থানার চিরাইলপাড়ায়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গুজরাট থেকে জ্বর নিয়ে ১ তারিখ বাড়িতে ফেরেন তিনি। এরপর তাঁকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ওই পরিযায়ী শ্রমিকের লালার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তবে পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। পরিবারের লোকেদের বারংবার ফোন করেও কোন রকম সাড়া পাওয়া যায়নি বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।

- Advertisement -

ওই যুবকের মেডিসিন বিভাগেই চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসা চলাকালীন চলতি মাসের ১২ তারিখ মেডিসিন বিভাগের শয্যা থেকে পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে যায় তাঁর। গুরুতর জখম অবস্থায় ওয়ার্ড বয়রা উদ্ধার করে সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে ভর্তি করে। শল্য চিকিৎসক সঞ্জয় শেঠ সহ অন্যান্য চিকিৎসকেরা চিকিৎসা করেন ভিনরাজ্যে ফেরত ওই শ্রমিকের। তবে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ার জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে রেফার করা হলেও পরিবারের লোকেরা না আসায় ওই যুবককে নিয়ে যাওয়া হয়নি।

ফলে দিনের পর দিন মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে ওই যুবক। গতকাল রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় অক্সিজেন স্যালাইন সহ যাবতীয় ইনজেকশন দেওয়া হয়। এদিন সকালে মৃত্যু হয় ওই যুবকের। বিকেল তিনটে নাগাদ রায়গঞ্জ থানার পুলিশের ক্যামেরাম্যান ও ময়নাতদন্তের চিকিৎসকের উপস্থিতিতে মৃতদেহ ময়নাতদন্ত হয়। এদিন হাসপাতালে তরফ থেকে বারংবার ফোন করা হলেও তাঁরা মৃতদেহ নিতে নারাজ। এমনটাই দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

ময়নাতদন্তের পর বর্তমানে মৃতদেহ রাখা রয়েছে হাসপাতালের ডিপ ফ্রিজে। ময়নাতদন্তের চিকিৎসক আরবি ঘোষ বলেন, মৃত ওই যুবকের নাম পরিচয় জানা গিয়েছে, পরিবারের কেউ না আসলেও মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের নোডাল অফিসার বিপ্লব হালদার বলেন, এদিন সার্জিক্যাল বিভাগে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল কিন্তু তারা মৃতদেহ নিতে নারাজ।

মৃতের বাবা বলেন, মৃতদেহ আমরা নেব না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যা করবে করুক। এদিকে মৃতদেহ না নেওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চরম বিপাকে পড়েছে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, চলতি মাসের ১৫ তারিখে রায়গঞ্জ থানাকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। পরিবারকে বারংবার ফোন করা হয়েছিল, কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। মৃতদেহ ডিপ ফ্রিজে রাখা হল। এরপর দাবিদারহীন মৃত্যু দেহ হলে প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী সৎকারের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য দপ্তরের বিধি অনুযায়ী, ১৬ দিন দেহ রাখা হবে। তারপর প্রশাসনিক নিয়ম অনুসারে সৎকার করা হবে। সমস্ত বিষয় লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশকে। ওই যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের এহেন আচরণে রীতিমত হতবাক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই মুহূর্তে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে দাবিদারহীন মৃতদেহ রয়েছে চারটি।

তারমধ্যে ইটাহার ব্লকের সোনাপুরের বাসিন্দা পঞ্জাব ফেরত শ্রমিকের মৃতদেহ, ফিভার ক্লিনিকের ভবঘুরে এক যুবকের মৃতদেহ, রায়গঞ্জ থানার বামন গ্রাম এলাকায় সদ্যোজাত শিশুর মৃতদেহ সহ চারটি দেহ রয়েছে। সমস্ত মৃতদেহ রাখা রয়েছে হাসপাতাল মর্গের ডিপ ফ্রিজে। বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ও জেলা পুলিশের কর্তাদের বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।