যোগীরাজ্যে ফের গণধর্ষণ, প্রাণ গেল দলিত তরুণীর

716
প্রতীকী ছবি

অনলাইন ডেস্ক: হাথরাস গণধর্ষণ কাণ্ডের ক্ষত না মেলাতেই যোগীরাজ্যে ফের গণধর্ষণ! এবার গণধর্ষণের শিকার বছর বাইশের দলিত তরুণী। হাথরস থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে বলরামপুরের ওই তরুণীকে মঙ্গলবার ভোরবেলা তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। সকালে কাজে যাওয়ার পথে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। দিনভর নির্যাতন চালানোর পর সন্ধের আগে ই-রিকশায় চাপিয়ে নির্যাতিতাকে বাড়ি ফিরিয়ে দিয়েছিল

পুলিশ জানিয়েছে, তরুণীর সারা শরীরে ক্ষত ছিল। সকালে বেড়িয়ে সংকটজনক অবস্থায় সন্ধে সাতটা নাগাদ বাড়ি ফিরে আসেন তরুণী। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তারদের পরামর্শে তাঁকে লখনৌয়ের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তরুণীর। ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণও মিলেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

- Advertisement -

হাসপাতাল সূত্রে খবর, তরুণীর উপরে নারকীয় নির্যাতন চালানো হয়েছে। এমনকি তাঁর শিরদাঁড়া ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। পাও ভেঙে দেওয়া হয়। মারের চোটে একাধিক অঙ্গ ক্ষতের সৃষ্টি হয়।। ডাক্তারদের দাবি, মাদক জাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছিল তরুণীকে। তাঁর কথাও অস্পষ্ট ছিল। রাতে হাসপাতালে তরুণীকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

বলরামপুরের পুলিশ সুপার দেব রঞ্জন বর্মা জানিয়েছেন, নির্যাতিতার পরিবার অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছে। তরুণীর পরিবারের দাবি, সকালে কাজে যাওয়ার সময় তাঁকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। ইতিমধ্যেই দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার বলেন, নির্যাতিতা তরুণীর পরিবারের দাবি গ্রামের কয়েকজনই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। অপরাধীরাই ধৃত দু’জনকে জেরা করে বাকিদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। তরুণীর দাদা জানিয়েছেন, ধৃত দুজনের মধ্যে একজন নাবালকও রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশে আরও এক গণধর্ষণ ঘটনা ঘটে। যা নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় চলছে। উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে ওইদিন চার দুষ্কৃতীর দ্বারা ধর্ষিত হন তরুণী। তাঁকে মারাত্মক জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরের দিন তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আলিগড়ের এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে সেখান থেকে তাঁকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

হাসপাতালে তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে শেষমেশ হার মানেন তরুণী। ঘটনায় অভিযুক্ত চার জনকে পরে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হাথরাস থানার ওসিকে বদলি করে পুলিশ লাইনস-এ পাঠানো হয়। নিগৃহীতার বাড়িতে পাহারারও বন্দোবস্ত করা হয়। এদিকে পরপর গণধর্ষণ ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ সরকারকে দুষেছেন সমাজবাদী পার্টি নেতা অখিলেশ যাদব।

তিনি টুইটে লিখেছেন, হাথরসের পরে উত্তরপ্রদেশের বলরামপুরেফের গণধর্ষণের ঘটনা ঘটল। এবারেও মৃত্যু হল নির্যাতিতার। বিজেপি-সরকার হাথরসের ঘটনার মত কাণ্ড না ঘটিয়ে দ্রুত এই অপরাধের কিনারা করুক। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হোক।