চিকিৎসক কাফিল খানের গ্রেপ্তারি বেআইনি, দ্রুত রেহাই দিন: এলাহাবাদ হাইকোর্ট

445

এলাহাবাদ: সাড়ে ৭ মাস পর জেল থেকে মুক্তি পেতে চলেছে উত্তরপ্রদেশের বিতর্কিত চিকিৎসক কাফিল খান। জননিরাপত্তা আইনে কাফিল খানের গ্রেপ্তারি অনৈতিক। মিছিলে তিনি যা বলেছেন তাতে কোনওভাবেই গোষ্ঠী হিংসা বা বিদ্বেষ ছড়ায় না। ফলে তাঁকে বন্দি করে রাখা যাবে না আর। দ্রুত তাঁকে রেহাই দিতে হবে। মঙ্গলবার আদালতের বিশেষ শুনানিতে ঠিক এমনটাই জানিয়ে দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

নয়া নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী আলিগড়ের মিছিল থেকে আপত্তিজনক মন্তব্য করায়, চিকিৎসক কাফিল খানকে জানুয়ারি মাসে গ্রেপ্তার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। ১৩ ডিসেম্বর উত্তরপ্রদেশের সিভিল লাইন্স থানায় ডাক্তার কাফিল খানের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩-এ অর্থাৎ ধর্মের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা বৃদ্ধিতে প্ররোচিত করার ধারায় একটি এফআইআর দায়ের হয়। সেই এফআইআরের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয় ডাক্তার খানকে। আর সেই গ্রেপ্তারির বিরুদ্ধে রায় দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

- Advertisement -

বলাবাহুল্য, সিটিজেনশিপ এমেন্ডমেন্ট আইন নিয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে যখন, সেই সময় ডাঃ খান আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ জানুয়ারি এক সভায় নিজের বক্তব্য পেশ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে বক্তব্যের বিষয় নিয়ে। ২৯ জানুয়ারি তাঁকে জাতীয় সুরক্ষা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়। আলিগড়ের ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় সুরক্ষা আইন আরও তিন মাস লাগু রাখার নির্দেশ দেন।

পাশাপাশি, ডাঃ কাফিল খান ২০১৭ সালে সংবাদের শিরোনামে আসেন। গোরক্ষপুরের বাবা রাঘবদাস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যথেষ্ট পরিমাণ অক্সিজেন সিলিন্ডারের অভাবে বহু সংখ্যক শিশুমৃত্যুর ঘটনায়। সরকারি হাসপাতালের এই দুর্দশার ঘটনা সংবাদে উঠে আসে। সেখানে যতজন শিশুকে বাঁচানো গিয়েছিল তা সম্ভব হয়েছিল কারণ ডাঃ কাফিল খান ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু অক্সিজেন সিলিন্ডার সংগ্রহ করেছিলেন বলে।