মামলার হিড়িকে আপার প্রাইমারিতে শিক্ষক নিয়োগ ঝুলছে  

সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি : স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) তথা রাজ্য শিক্ষা দপ্তর দীর্ঘ সাতবছরেও এ রাজ্যের স্কুলগুলিতে আপার প্রাইমারিতে শিক্ষক নিয়োগ না করতে পারায় বহু জলঘোলা হয়েছে।

কিন্তু কেন এমনটা হল? ২০১৪ সালের গোড়ায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ষোড়শ লোকসভা নির্বাচনের মুখে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে চাকরিপ্রার্থীরা ফর্ম ফিলআপ করেন। ২০১৫ সালের ১৬ অগাস্ট টেট অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ফলাফল প্রকাশিত হয়। এর ফলে ২০১২ এবং ২০১৫ সালের টেট মিলে গোটা রাজ্যে উত্তীর্ণের সংখ্যা প্রায় দুই লক্ষ হয়। এরপরই প্রাইমারি ও আপার প্রাইমারিতে ট্রেন্ড ও নন-ট্রেন্ডের নিয়োগ নিয়ে একাধিক মামলা শুরু হয়। আদালতের রায়ে ২০১৭ সালে রাজ্যে প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ শেষ হলেও আপার প্রাইমারির নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে যায়। সূত্রের খবর, সে সময় রাজ্য শিক্ষা দপ্তর ও কমিশনের ভাবনা ছিল, প্রথমে আপার প্রাইমারি নিয়োগের পর নবম-দশম এবং তারপর একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ হলে অনেকেই আপার প্রাইমারির চাকরি ছেড়ে উঁচু বেতনক্রমের বাকি দুই স্তরে চলে যাবেন। এজন্য কমিশন এবং শিক্ষা দপ্তর আপার প্রাইমারি নিয়োগ থামিয়ে বাকি দুই স্তরের নিয়োগে হাত দেয়। ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ করার পরীক্ষার পর ৪ ডিসেম্বর একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষা হয়। এই দুটি পরীক্ষা পরে হওয়া সত্ত্বেও ২০১৮-১৯ সালের মধ্যেই কমিশন এই প্রক্রিয়া শেষ করে ফেলে। তবুও শিক্ষক নিয়োগ হয়নি।

- Advertisement -

শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে পর ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন শেষে জুলাইয়ে এসএসসি আপার প্রাইমারির ১৪৩৩৯টি শূন্যপদের জন্যে প্রায় ২৯ হাজার চাকরিপ্রার্থীর ইন্টারভিউ নেয়। ৪ অক্টোবর প্রভিশনাল মেরিট লিস্ট প্রকাশিত হয়। আদালতের আদেশেই এর একদিন পর থেকে কমিশন ২১ দিন ধরে এই মেধাতালিকা নিয়ে অভিযোগ নেয়। প্রায় ১৩ হাজার অভিযোগ জমা পড়ে। এরপরেই ফের মামলার হিড়িক শুরু হয়। এই মুহূর্তে যার সংখ্যা কয়েকহাজার। সব মিলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বিশবাঁও জলে। মূলত তিনটি বিষয় নিয়ে মামলা হয়েছে। ইন্টারভিউ দিয়ে মেরিট লিস্ট থেকে নাম বাদ যাওয়া, টেটের প্রকাশিত ফলাফল এবং প্রভিশনাল মেরিট লিস্টের মধ্যে প্রার্থীদের নম্বরের বিস্তর ফারাক এবং সরকার প্রকাশিত গেজেট নোটিফিকেশন ভেঙে শূন্যপদের অনুপাতে ইন্টারভিউতে ডাক পাওয়া প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়া। চাকরিপ্রার্থীরা বর্তমানে দুভাগে বিভক্ত হয়েছেন। তালিকায় প্রথম দিকে নাম থাকা একদল মেধাতালিকা অনুসারে দ্রুত নিয়োগ চাইছেন। আর একদল আগে মামলাগুলির নিষ্পত্তির পর নিয়োগ চাইছেন। তাঁদের একাংশের আশা, সাতবছর আগে কমিশন যে শূন্যপদের সংখ্যা ১৫ হাজারের কিছু কম বলে জানিয়েছিল তা এই কয়েবছরে বেড়ে ২৫ হাজারে পৌঁছে গিয়েছে।

রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ে সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর কোনও মন্তব্য মেলেনি। এসএসসির সচিব তথা বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অশোককুমার সাহা বলেন, চাকরিপ্রার্থীদের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল এবং এতদিন ধরে নিয়োগপর্ব শেষ না হওয়াটা কমিশনের কাছেও চ্যালেঞ্জের। আমরা আদালতের উপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখে দ্রুত মামলাগুলির নিষ্পত্তির চেষ্টা চালাচ্ছি। পাশাপাশি, আমরা দ্রুত নিয়োগের পক্ষপাতী। মামলাগুলির অনলাইন শুনানির জন্যেও আমরা আবেদন জানিয়েছি।        (শেষ)