গঙ্গারামপুরে উরস উৎসবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির

161

গঙ্গারামপুর: প্রতিবছরের মতো এবছরও জিন্দাপির সৈয়দ করম আলি শাহ টাটশাহী ফরিকের উরস উৎসব পালিত হল। উরস উৎসব ঘিরে মাজারে সিন্নি চড়ালেন হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। পিরে মাজারে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন যেমন নমাজ পড়লেন। পাশাপাশি মাজারের পাশে হরিনাম সংকীর্তনে মাতলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির গড়ে উঠল গঙ্গারামপুর ধলদিঘিতে।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মাজারগুলির মধ্যে ঐতিহাসিক মাজার গঙ্গারামপুরের ধলদিঘির জিন্দাপির সৈয়দ করম আলি শাহ টাটশাহী ফরিকের মাজার। আর এই টাটশাহী ফরিকের মাজার ঘিরে ঐতিহাসিক বিদদের মধ্যে নানান মত রয়েছে। লুকিয়ে রয়েছে বহু জানা আজানা ইতিহাস। কথিত আছে সৈয়দ করম আলি শাহ টাটশাহী ফরিক ছিলেন এক ইসলামিক ধর্ম প্রচারক। তিনি বখতিয়ার খিলজি কর্তৃক দখলকৃত দেবীকোট বৌদ্ধ বিহারে আস্তনা গাড়েন। তাঁর প্রভাবে স্থানীয় মানুষ ইসলাম ধর্মমত গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি জিন্দাপির নামে মর্যাদা পান। সৈয়দ করম আলি শাহ টাটশাহী ফরিক হিন্দু সম্প্রদায়ের পদ্মমনি ঠাকুরানীকে বিয়ে করেন এবং তাঁর একমাত্র হিন্দু শিষ্য ছিলেন কান্তা রায়। সারা বছর আস্তানা থেকে বের হতেন না। ২৫শে মাঘ আস্তা থেকে বেরিয়ে ধলদিঘিতে স্নান সেরে চটের পোশাক পরে আস্তানায় প্রবেশ করতেন। তাই তাঁর নাম টাটশাহী ফরিক। তিনি দেহ রাখার পরেই ধলদিঘির পাড়ে সমাধি দেওয়া হয়। তাই ২৫শে মাঘ উরস উৎসব হিসাবে পালন করা হয়। পাশাপাশি জিন্দাপির সৈয়দ করম আলি শাহ টাটশাহী ফরিকের স্ত্রী পদ্মমনি ঠাকুরানী দেহ রাখলে তাঁর পাশেই তাঁকে সমাধি করা হয়। সেই সঙ্গে টাটশাহী ফরিকের একমাত্র শিষ্য কান্তা রায়ের বেলবাড়িতে দেহ রাখলেও তাঁকে গুরুর পাশে সমাধি করা হয়। তাই প্রতিবছর উরস উৎসবে হিন্দু-মুসলিম মানুষজন ডগা পুজোর মাধ্যমে এবং মাজারে সিন্নি চড়িয়ে জিন্দাপির সৈয়দ করম আলি শাহ টাটশাহী ফরিকের উরস পালন করেন। মাজারে একদিকে যেমন চলে নমাজ পড়া। অন্যদিকে চলে হরিনাম সংকীর্তন। এবছর তার ব্যতিক্রম হয়।

- Advertisement -

সকাল থেকে জেলার হরিরামপুর, কুশমণ্ডি, বংশীহারী, তপন, বালুরঘাট, হিলি, কুমারগঞ্জ ও গঙ্গারামপুর ব্লকের আশপাশ এলাকার হাজার হাজার মানুষ উরস উৎসবে শামিল হয়েছেন। ধলদিঘির পাড়ে পোলাও রান্না করে খেয়ে নিয়ম রক্ষা করলেন বহু মানুষ। সেই সঙ্গে জমে উঠেছে মেলাও। তবে একসময় এই মেলা দেড় থেকে দু’মাস যাবত চলত। কয়েক কিলোমিটার জুড়ে বসত মেলা। পশু কেনাবেচা সহ বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান বসত। বসত সিনোমা হলও। আসত বড় বড় যাত্রা দল ও সার্কাস। কিন্তু সময়ের পরিবর্তে মেলার পরিধি যেমন কমেছে। তেমনি বসে না সিনেমা হল। আসে না সার্কাস ও যাত্রা পালার দলও। তবে সাতদিন মেলা হবে বলে জানা গিয়েছে। মেলায় বিভিন্ন রকমারির দোকান সহ বসেছে নাগর দোলা, ব্রেক ডান্স।