ভাইরাস বিতণ্ডায় তোলপাড় দু’দেশের কূটনীতিক বৈঠক

79

আলাস্কা: বাইডেনের মসনদে বসার পর প্রথম মুখোমুখি বৈঠকে বসেন মার্কিন এবং চিনা কূটনীতিকরা। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি। আলাস্কায় বৈঠকে বসে নজিরবিহীনভাবে একে অপরের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা যায় দু’পক্ষকেই। চিনের বিদেশ মন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, ‘নিজেদের সামরিক শক্তি এবং আর্থিক প্রতিপত্তির জোর খাটিয়ে আমেরিকার দাদাগিরি নতুন কিছু নয়। ইতিহাস ঘাঁটলেই সেটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। চিনের আভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য বেমানান।’ তিনি জানান, বিভিন্ন দেশে আমেরিকা নিজেদের সেনা মোতায়েন করে রাখে, এটাও স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অমর্যাদা মনে করে চিন। এমনকি চিনকে আক্রমণ করতে কিছু দেশকে আমেরিকা প্ররোচিত করছে বলেও অভিযোগ করেন চিনা কূটনীতিক দল। নাম না করে বললেও ভারত, জাপান, তাইওয়ানের কথাই যে বলতে চেয়েছেন চিনা বিদেশমন্ত্রী তাতে সন্দেহ নেই।

এদিকে, পিছিয়ে ছিল না আমেরিকা। সেদেশের বিদেশ সচিব অ্যান্টনি ব্লিংকেন জানান, চিন মানবিকতার পরোয়া না করে বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ড চালায়। উইঘুর গণহত্যা থেকে শুরু করে হংকং, তিব্বতে গায়ের জোর খাটাচ্ছে। সাংবাদিকদের জেলে ভরা হয়েছে। আমেরিকার বন্ধুরাষ্ট্রদের সঙ্গে কড়া মনোভাব দেখাচ্ছে এই দেশ। বিভিন্ন দেশকে ঋণের দেনায় ডুবিয়ে দিয়ে সেই দেশের সম্পত্তি হাতানোর চেষ্টা করছে জিনপিং সরকার। এই জিনিস সহ্য করবে না আমেরিকা।

- Advertisement -

উল্লেখ্য, প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথিবীতে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর পেছনে চিনের হাত স্পষ্ট বারবার দাবি করে এসেছিলেন। নতুন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন বিভিন্ন ব্যাপারে তাঁর পূর্বসূরীর সঙ্গে একমত না হলেও, চিন প্রসঙ্গে নরম মনোভাব কোনওভাবেই দেখাননি। বাইডেন আমেরিকার মসনদে বসার পর এই প্রথম মার্কিন এবং চিনা কূটনীতিকদের বৈঠক আয়োজন করা হয়েছিল। ভার্চুয়াল নয়, একেবারে মুখোমুখি বসে। আর এদিনের বাগবিতণ্ডা আগামী দিনে আমেরিকা বনাম চিন লড়াই অন্য মাত্রা পাবে তাতে সন্দেহ নেই।