প্লাজমা থেরাপিতে নিষেধাজ্ঞা মার্কিন স্বাস্থ্য প্রশাসনের

608

নয়াদিল্লি: করোনা ভাইরাসে সংক্রামিত রোগীদের প্লাজমা থেরাপি করা নিয়ে ইতিউতি প্রশ্ন উঠেছিল। এবার এই চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। করোনা সংক্রামিতদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে প্লাজমা থেরাপির অনুমোদন দেওয়া থেকে তারা আপাতত নিজেদের বিরত রেখেছে। এফডিএ-র মতে, ভারত সহ বেশ কয়েটি দেশ করোনা ভাইরাসে সংক্রামিতদের চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগে গুরুত্ব আরোপ করলেও এই চিকিৎসা পদ্ধতি এখনও বেশ দুর্বল এবং অন্যান্য প্রতিক্রিয়াও তত স্পষ্ট নয়।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, নানা ব্যবসায়িক কারণে করোনা রোগীর চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই এটাকে জাদু চিকিৎসার মতো করে দেখাতে চাইছে। কিন্তু বাস্তবে প্লাজমা থেরাপির সেই কার্যকারিতা মোটেই প্রমাণিত নয়। রক্তের জলীয় অংশকে বলা হয় প্লাজমা। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে। কোভিড-১৯ রোগের ক্ষেত্রে করোনা মুক্ত হয়ে যাওয়া ব্যক্তির প্লাজমা করোনা সংক্রামিত ব্যক্তির দেহে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। একেই বলে প্লাজমা থেরাপি। চিকিৎসার পরিভাষায় যার নাম কনভালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপি। কনভালেসেন্ট কথাটির অর্থ, কোনও একটি রোগ থেকে সস্থু হয়ে যাওয়ার পর ব্যক্তির দেহে রোগ প্রতিরোধকারী অ্যান্টিবডি রয়ে গিয়েছে।

- Advertisement -

করোনার মোকাবিলায় যেহেতু প্রতিষেধক এখনও হাতে এসে পৌঁছোয়নি, সেহেতু সস্থু হয়ে যাওয়া ব্যক্তির অ্যান্টিবডি করোনা সংক্রামিত ব্যক্তির দেহে ইনজেক্ট করা হয়। ওই অ্যান্টিবডি ভাইরাসকে রোখার চেষ্টা করে। তবে এই পদ্ধতিতে সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি, দুইই আছে। আর তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিজ্ঞান-গবেষকদের।

ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ মেডিকেল এথিকসের সম্পাদক অমর জেসানি বলেছেন, ক্লিনিক্যাল গবেষণার মাধ্যমে প্লাজমা থেরাপির থেরাপিউটিক কার্যকারিতা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত একে অনুমোদন দেওয়া ঠিক নয়। তাঁর কথায়, এখনও পর্যন্ত সেই প্রমাণ সরবরাহ করার মতো কোনও প্রমাণ নেই। প্লাজমা থেরাপি সংক্রান্ত সংশয় দূর না হলেও ইতিমধ্যে দেশের বহু রাজ্য এবং হাসপাতাল কেবল যে এই থেরাপি সমথর্ন করেছে তাই নয়, পাশাপাশি তারা অনেকেই প্লাজমা ব্যাংকও স্থাপন করে ফেলেছে। উদাহরণস্বরূপ মহারাষ্ট্র, দিল্লি এবং হরিয়ানার কথা বলা যায়। ওইসব রাজ্যের চিকিৎসকরা মধ্যমানের করোনা সংক্রামিতদের চিকিৎসার জন্য প্লাজমা থেরাপি সপুারিশ করছেন বলেও জানা গিয়েছে।

প্লাজমা থেরাপির নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর) গত এপ্রিল মাসে এলোমেলোভাবে নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় অংশ নেওয়ার কথাও জানিয়েছিল। যদিও আইসিএমআর এখনও ফলাফল প্রকাশ করতে পারেনি, প্রাথমিক ফলাফলের সঙ্গে পরিচিতরা বলেছেন যে, আইসিএমআরএর পরীক্ষা থেকে আশাব্যঞ্জক ফলাফল মেলেনি।

আইসিএমআর-এর সঙ্গে যুক্ত এক এপিডেমোলজিস্ট বলেন, প্লাজমা থেরাপির ব্যবহার নিয়ে কিছু প্রস্তাব রয়েছে আইসিএমআর-এর। তাদের বক্তব্য, এই পদ্ধতি কাজ না করলেও কোনও ক্ষতি করে না। তবে পরীক্ষা করে যদি দেখা যায় যে, এই থেরাপিতে তেমন কাজ হচ্ছে না, তাহলে তা বাতিল করাই বিজ্ঞানসম্মত হবে। এর আগে এইমসের ডিরেক্টর ডাক্তার রণদীপ গুলেরিয়া বলেছিলেন, তাঁদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী কনভ্যালসেন্টস প্লাজমা থেরাপিতে কোভিড রোগীদের মৃত্যুহার কমানোর ক্ষেত্রে কোনও নিভর্রযোগ্য কার্যকারিতা ধরা পড়েনি।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর) দ্বারা প্লাজমা থেরাপি (প্লেসিড ট্রায়াল) নিয়ে গবেষণা এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং এর ফলাফল সমীক্ষা শেষে প্রকাশ করার আশ্বাস দিয়ে সংস্থার এক প্রবীণ কর্তা জানিয়েছেন, ৪৫২টি নমনুা নিয়ে কাজ হচ্ছে। যদিও জেসানির মতে, এপ্রিল থেকে ভারতে প্লাজমা থেরাপি নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে। অথচ অগাস্ট শেষ হতে চললেও তার ফলাফল জানা যাচ্ছে না, এটা খুব অবাক করার মতো ঘটনা।