প্লাস্টিক-থার্মোকলের দখলে বাজার, ধুঁকছে নয়নসুখের কুমোররা

440

অর্ণব চক্রবর্তী, ফরাক্কা : কালের স্রোতে অনেক কিছু ফিকে হয়ে গেলেও ফরাক্কার নয়নসুখ অঞ্চলের কুমোরদের কথা কিন্তু এখনও সবার মুখে মুখে ফেরে। ফরাক্কার নয়নসুখ অঞ্চলের প্রায় ৫০০ পরিবার মাটির কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মাটির তৈরি চায়ের ভাঁড়, মিষ্টির হাঁড়ি, থালা, সরা, কলসি থেকে শুরু করে গোরুর খাওয়ার চাড়ি, কুয়োর পার ইত্যাদি সব কিছুই তৈরি করতেন তাঁরা বংশানুক্রমে। বর্তমানে বাজার অর্থনীতিতে প্লাসটিক, থার্মোকল ইত্যাদি শৌখিন সামগ্রী চলে আসায় ধুঁকছেন ওই কুমোররা। এখনো এক দেড়শো জন এই পেশার সঙ্গে যুক্ত আছেন। বাকিরা কেউ রিকশা চালান, কেউ বিড়ি বাঁধেন, কেউ বা অন্যের জমিতে খাটেন। এভাবেই দিন চলছে কুমোর পরিবারগুলির।

গ্রামেরই এক বাসিন্দা অর্চনা মণ্ডল বলেন, আগে তো অনেক মিষ্টির হাঁড়ি, মাটির থালা, ঘট, প্রদীপ এই সব বানাতাম। কিন্তু বাজারে চাহিদা কমতে লাগল। সবাই প্লাস্টিক, স্টিলের সামগ্রী ব্যবহার করছেন। ফলে এই পেশা ক্রমে হারাতে বসেছে। অল্প কিছুজন মাটির ঘট, ভাঁড় এসব বানায়। আমি বিড়ি বাঁধি এখন। আমাদের বানানো মাটির সামগ্রী ফরাক্কার বিভিন্ন বাজারে যেত। বর্তমানে থার্মোকল, প্লাস্টিকের ও কাগজের প্লেট এসে মাটির সামগ্রীর বাজারটাকে নষ্ট করে দিয়েছে। আমাদের জন্য কেউ  সেভাবে ভাবল না ।

- Advertisement -

ফরাক্কার নয়নসুখ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুলেখা মণ্ডলের মতে, একটা সময় ছিল যখন পাঁচ-ছয়শ বেশি পরিবার এই কাজে যুক্ত ছিলেন। এখন খাটনি বেশি লাভ বা চাহিদা কমে য়াওয়ায় এই কুমোররা অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। কেউ বাইরে চলে গেছে, কেউ আবার অন্য কাজে যুক্ত হয়েছে। তিনি আরও জানান, নয়নসুখ হাজারপুর অঞ্চলেই মূলত এই কুমোরদের ঘাঁটি ছিল। আশেপাশে কিছু অংশে য়েমন ব্রাহ্মণ গ্রামেও কিছু কিছু এদের দেখা যেত। আগে গোরুর গাড়ি করে হাঁড়ি, কলসি, টব এখান থেকে নিয়ে যেত হাটে এবং ফরাক্কার আশেপাশের বাজারগুলিতে। ফরাক্কা ছাড়াও অন্যান্য জায়গাতেও যেত। কিন্তু বর্তমানে ১৫০/২০০ মতো পরিবার রয়েছে এই পেশায়। যদিও তাদের পরবর্তী প্রজন্মের তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

ফরাক্কার বিডিও রাজর্ষি চক্রবর্তী বলেন, আমি এসেছি অল্প দিন আগে। শুনেছি আমার কাছে তাদের সমস্যা নিয়ে কেউ আসেনি। বর্তমান সরকার এই সমস্ত, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক স্কিম চালু করেছে। ওরা সাহায্য চাইলে আমার তরফ থেকে সবরকম সহযোগিতা করা হবে।