সময়ের সঙ্গে ছাম-গায়েনের ব্যবহার কমেছে উত্তরবঙ্গে

373

অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি : সময়ের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের গ্রামগঞ্জ থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ছাম-গায়েন। কয়েকদশক আগেও গ্রামের প্রতিটি কৃষক পরিবারকে ধান ভাঙানোর জন্য কাঠের তৈরি ছাম-গায়েনের উপরই নির্ভর করতে হত। কিন্তু এখন বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্র এসে যাওয়ায় এর ব্যবহার কমে গিয়েছে বলে আক্ষেপ প্রবীণদের।

নগর বেরুবাড়ি, হলদিবাড়ি, মানিকগঞ্জ, মালকানি সহ সীমান্তবর্তী গ্রামীণ এলাকার মহিলারা জানান, ধান ভাঙা, চিঁড়ে কোটা, চাল গুঁড়ো করা থেকে শুরু করে মশলা গুঁড়ো করা, সবই এই ছাম-গায়েনে করা হত প্রতি বাড়িতে। পৌষপার্বণের সময় পাড়াজুড়ে ছাম-গায়েনের ঠকঠক শব্দ শোনা য়েত। কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলার অনেক লোকসংগীতে এই ছাম-গায়েনের উল্লেখ রয়েছে। এখনও বিয়ে হলুদ কোটার সময় গান করে ছাম-গায়েনের পাড় দেন গ্রামের মহিলারা। গোবর্ধনপুজোয় ছাম-গায়েনের ব্যবহার দেখা যায়।

- Advertisement -

বেরুবাড়ির বাসিন্দা নুর ইসলাম বলেন, ধান, মশলা, গম, চাল সবই এখন যন্ত্রের সাহায্যে খুব কম সময়ে গুঁড়ো হয়। ফলে অনেকেই আর বাড়িতে দীর্ঘসময় ধরে শারীরিক পরিশ্রম করতে চান না। তবে এখনও শীতের মরশুমে পৌষপার্বণের সময় ঢেঁকি কিংবা ছাম-গায়েনের কদর বাড়ে। কোচবিহার হেরিটেজ সোসাইটির হলদিবাড়ি শাখার সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র রায় বলেন, আধুনিকতা ও যন্ত্রসভ্যতার দাপটে গ্রামবাংলা থেকে অনেক কিছুই হারিয়ে যেতে বসেছে। ছাম-গায়েনের ব্যবহারও দ্রুত কমেছে। ছাম-গায়েন সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানেন না বলে আক্ষেপ প্রবীণদের। দক্ষিণ বেরুবাড়ির বাসিন্দা শিল্পী কংস রায় বলেন, মূলত পুরোনো কাঁঠাল গাছের বড়ো গুঁড়ি কেটে ছাম তৈরি হয়। শাল গাছের শক্ত কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয় গায়েন। আজও তিনি অবসর সময়ে ছাম-গায়েন তৈরি করেন। তিনি আক্ষেপ করেন, যখন ভালো চাহিদা ছিল তখন বহু মানুষ ছাম-গায়েন তৈরি করে সংসার চালাতেন। এখন এর চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক কম শিল্পী এই কাজ করেন। শিল্পী শিবেন রায়ও ছাম-গায়েন তৈরি করেন। তিনি বলেন, ধান ভাঙানো থেকে চিঁড়ে তৈরি, চাল, ডাল ইত্যাদি গুঁড়ো করার কাজে এখন আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। তাই ছাম-গায়েন বাজারে নিয়ে গেলে খুব বেশি ক্রেতা মেলে না। শুধু এই কাজ করে এখন আর দিন চলে না। তাই অন্য কাজের ফাঁকে অবসর সময় এই কাজ করি।