পশ্চিম কাঁঠালবাড়ি গ্রামে অকেজো নলকূপ, নাজেহাল গ্রামবাসীরা

347

পলাশবাড়ি: আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সরোদিনি বর্মনের নিজস্ব বুথেই পানীয় জলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পশ্চিম কাঁঠালবাড়ি গ্রামে দীর্ঘ ১৫ বছর আগে পিএইচই-র পাইপ লাইন বসানো হলেও জল পাচ্ছেন না প্রায় এক হাজার মানুষ। অভিযোগ, বহু আগেই ওই পাইপ লাইন বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে গিয়েছে। এলাকায় ট্যাপকলেরও কোনও চিহ্ন নেই। গ্রামবাসীর দাবি মেনে দু’বছর আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ এলাকায় একটি গভীর টিউবওয়েল বসিয়ে দেয়। অভিযোগ,ওই টিউবওয়েলটিও বর্তমানে অকেজো হয়ে রয়েছে।

তবে গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের দাবি, পানীয় জলের এই গোটা বিষয়টি পিএইচই-কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এদিকে পিএইচই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই এলাকায় নতুন পাইপ লাইনের কাজের প্রস্তাব উপরমহলে পাঠানো হয়েছে।

- Advertisement -

ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের পুঁটিমারি মোড় থেকে দক্ষিন দিকে পশ্চিম কাঁঠালবাড়ি গ্রামে ঢোকার পাকা রাস্তার পাশ বরাবর পিএইচই-র জলের পাইপ লাইন রয়েছে। পলাশবাড়ির দুটি পাম্প হাউসের সঙ্গে এই পাইপ লাইনের সংযোগ রয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫ বছর আগে ওই গ্রামে জলের এই পাইপ বসানো হয়। গ্রামবাসীর অভিযোগ, প্রথম দিক থেকেই এই এলাকায় জল পৌঁছায়নি। এই জল সংকটের বিষয়টি তাঁরা স্থানীয় প্রশাসনকে বহু বছর থেকে জানিয়ে আসছেন। সেই দাবি মেনে অবশ্য দু’বছর আগে গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে পশ্চিম কাঁঠালবাড়িতে গভীর টিউবওয়েল বসানো হয়। তবে ওই টিউবওয়েলটিও বর্তমানে অকেজো হয়ে রয়েছে।

সূত্রের খবর, এই এলাকায় টিউবওয়েলের জলে আয়রনের মাত্রা রয়েছে। তাই গ্রামের কেউ কেউ ২-৩ কিমি দূরে গিয়ে খাওয়ার জল রোজ নিয়ে আসেন। অনেকে আবার বাধ্য হয়ে বাড়ির টিউবওয়েলের দূষিত জলই খান। এই পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা অরুপ দাস, প্রদীপ বর্মন, রমেন বর্মন জানান, এলাকায় পানীয় জলের সংকট মারাত্মক। প্রশাসনকে বহুবার জানিয়েও এই জল সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। অরুপ বলেন, ‘এলাকার প্রায় এক হাজার মানুষ এই সমস্যায় রয়েছেন। ১৫ বছর আগে লাগানো পিএইচই-র পাইপ অধিকাংশ জায়গায় ভেঙে রয়েছে। দ্রুত এই পরিষেবা স্বাভাবিক হলে ভালো হয়।’

গ্রামের ১৩/২৫৬ নম্বর বুথেই বাড়ি প্রধান সরোদিনি বর্মনের। তিনি বলেন, ‘এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। এর আগে পিএইচই-র আধিকারিকরাও এলাকা পরিদর্শন করেছেন। গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে লিখিতভাবেও পিএইচই-কে সব জানানো হয়েছে। এখন পিএইচই থেকে নতুন পাইপ লাইন বসানোর কাজ শুরু হলেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

এদিকে এলাকায় অকেজো টিউবওয়েল প্রসঙ্গে প্রধান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশকেই দায়ি করেছেন। প্রধান বলেন, ‘এই জল সংকটের কথা ভেবেই গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ওখানে গভীর টিউবওয়েল বসানো হয়। কিন্তু কে বা কারা ওই টিউবওয়েলটিকে নষ্ট করে দেয়। এর আগে একবার সেটি ঠিক করা হয়েছিল। এখন ফের টিউবওয়েলটি নষ্ট হয়েছে। এভাবে বারবার ঠিক করা সম্ভব নয়।’

এ প্রসঙ্গে পিএইচই-র আলিপুরদুয়ারের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত ধর বলেন, ‘ওই এলাকার পুরো পাইপলাইনটি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। নতুন করে পাইপ লাইনের কাজের প্রস্তাব উপরমহলে পাঠানো হয়েছে। অনুমদোন পেলেই কাজ হবে।’