চিতার ছাই মেখে ‘মাসান কি হোলি’ বারানসীতে

93

লোপামুদ্রা তালুকদার, কাশী: কথায় আছে, ‘কাশী অসম্পূর্ণ যদি না থাকেন বাবা বিশ্বনাথ।’ আর ঠিক এই কারণেই মহাদেবের এই শহরে হোলি সহ যেকোনও শুভ কাজ শুরু হয় ‘বাবাকে’ দিয়েই। বসন্তের এই উৎসবে যখন সকলে নানা রঙের খেলায় নিজেকে মাতিয়ে তোলেন, সেইমুহূর্তে কাশীর শ্মশানে চিতা আগুন জ্বলে ওঠার সঙ্গে গুলাল উড়িয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন শিবভক্তরা। অদ্ভূত এই প্রথার পোশাকি নাম ‘মাসান কি হোলি’।

প্রথা অনুযায়ী, শ্মশানে জ্বলন্ত চিতার পাশে সেই চিতার ভস্ম ও আবিরের রঙে মেতে উঠতে দেখে যায় বাবার ভক্তদের। সেই রঙে মহাদেবও একাত্ম হয়ে নিজেকে রাঙিয়ে তোলেন। আর দেবাদিদেবের এই মত্ততার খেলায় নিজেকে মাতিয়ে তোলেন দেবী গৌরী। শৈবতীর্থ কাশী শহরের এই ঐতিহ্যটি অনন্য। ভক্তরা মহাশ্মশান ঘাটে মাসানের হোলিতে চিতার ছাই ও আবির নিয়ে হোলি খেলেন। সকাল থেকেই এই হোলি নিয়ে ভক্তরা বেশ উৎসাহী ছিলেন। এদিকে, মণিকার্ণিকা ঘাটে যখন সারি দিয়ে চিতা জ্বলছিল, অন্যদিকে বাবা বিশ্বনাথের ভক্তরা সেই চিতার ছাই দিয়ে হোলি খেলছিলেন। স্লোগান ওঠে ‘হর হর মহাদেব’। আর এই উৎসব দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা ভিড় করেছিলেন। এমনটা দেখে হতবাকও হন অনেকে।  যদিও অন্য বছরের তুলনায় এবছর বিদেশি ভক্ত তেমন ছিল না।

- Advertisement -

এদিকে কাশীর এক স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাশীতে হোলির বা ‘মাসান কি হোলি’র এই উৎসব প্রায় ৩৫০ বছর ধরে পালিত হয়ে আসছে। আগে সন্ন্যাসী ও গৃহস্থরা সকলে মিলে মাসান কি হোলির আয়োজন করতেন। গত বছর করোনা মহামারীর জন্য এই উৎসব বন্ধ ছিল। তবে চলতি বছরে ফের মণিকর্ণিকা ঘাটে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করাতে বেশ উচ্ছ্বসিত গোটা কাশীনগরী।