৪৯টি মামলার রহস্য উদঘাটন করে ‘অফিসার’-এর মূর্তি বসল থানায়

185

মুজফফরনগর: করোনার করাল থাবা প্রাণ কেড়েছে উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগরের এক দাপুটে ‘অফিসারের’। তাঁর জীবনকালে অন্তত ৪৯টি মামলার রহস্য উদঘাটন করেছেন তিনি। মুজফফনগর পুলিশ স্টেশনের অফিসারদের করোনা পরিস্থিতিতেও সাহায্য করেছিলেন। আর তাঁর সম্মানে রবিবার সেই পুলিশ স্টেশনেই বসানো হল মূর্তি। তাঁর তাঁর নাম টিংকি। তিনি আর কেউ নয় তিনি একজন পুলিশ কুকুর। এদিন টিংকির মূর্তি উন্মোচন ঘিরে সকাল থেকেই থানায় ছিল সাজো সাজো রব। উপস্থিত ছিলেন উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তারাও। মূর্তি উন্মোচনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শহরের এসপি অর্পিত বিজয়বর্গীয়, গ্রামীণ এসপি অতুল কুমার এবং শহরের সার্কেল অফিসার কুলদীপ কুমার। তবে টিংকিকে যে অফিসার সামলাতেন সেই মহেশ কুমার এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। মুজফফরনগর থেকে আপাতত তিনি বিজনোরে বদলি হয়ে গিয়েছেন বলেই তাঁর অনুপস্থিতি। সিনিয়র ডগ হ্যান্ডেলার সুনীল কুমার টিংকির মূর্তি উন্মোচন করেন।

জার্মান শেফার্ড প্রজাতির টিংকি ছিল স্টেশনের নয়নের মণি। পুলিশ ফোর্সে কর্মরত থাকাকালীন তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্যই এদিন এভাবে তাকে সম্মান জানানো হয়। মুজফফরনগরের অ্যাডিশনাল এসপি মহেশ কুমারের কথায়, ‘কাউকে সম্মান জানানোর জন্য এর চেয়ে ভালো কিছু আর হতে পারে না।’ গোয়ালিয়রে বিএসএফের ন্যাশনাল ডগ ট্রেনিং সেন্টারে ট্রেনিং নিয়েছিল টিংকি। সেখান থেকেই মুজফফরনগরের ডগ স্কোয়াডে তাকে নিয়োগ করা হয়েছিল।

- Advertisement -

প্রথমে টিংকি মুজফফনগরের পুলিশ স্টেশনে একজন কনস্টেবল হিসেবে এবং স্নিফার ডগের ভূমিকায় দায়িত্ব পেয়েছিল। মাত্র ৬ বছরের মধ্যে তাঁর অপরাধ সম্পর্কে অসামান্য দক্ষতার জন্য প্রোমোশান পেয়েছিল সে। তার গন্ধ শুঁকে অপরাধীকে খোঁজার ক্ষমতার জোরে অন্তত ৪৯টি মামলার সমাধান করেছিল পুলিশ। মাত্র ৮ বছর বয়সেই গত নভেম্বরে মারা যায় সে। মনসুরপুরে একদল দুষ্কৃতী লুকিয়ে থাকা এবং পুকুরে দেহ পড়ে থাকার মতো অসাধারণ সব কেস নিমেষে সমাধান করত টিংকি। তাঁর এই ক্ষমতাকে সম্মান জানাতেই থানায় মূর্তি বসিয়ে নজির গড়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।