দেশে মহিলা নিগ্রহে শীর্ষে যোগী রাজ্য, দশমে বাংলা

284

নয়াদিল্লি : মহামারি আবহে আচমকা লকডাউনের ঘোষণা এদেশের সাধারণ মানুষকে বিব্রত করেছিল বটে, কিন্তু তার চেয়ে সেই সময়ে গার্হস্থ্য হিংসায় দিশাহারা হয়েছেন মহিলারা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংসারের হাল ধরে থাকেন যাঁরা, সেই মহিলাদের ওপর অত্যাচার ২০২০ সালে রেকর্ড ছুঁয়েছে। জাতীয় মহিলা কমিশন (এনসিডবলিউ)-এর রিপোর্টে এমনই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর মেয়েদের বিরুদ্ধে ২৩,৭২২টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এই অপরাধের শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। তারপর দিল্লি। তালিকার দশম স্থানে পশ্চিমবঙ্গ।

লকডাউনের অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে কর্মরত মহিলারা বাড়ির পরিবেশের সঙ্গে অফিসের কাজে নিজেদের খাপ খাইয়েছেন, তার প্রশংসা করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা। গার্হস্থ্য হিংসা কড়া হাতে সরকারকেই দমন করতে হবে বলে জানিয়েছেন মহিলা অধিকার কর্মী শামিনা শফিক।

- Advertisement -

গার্হস্থ্য হিংসা শুধু সংঘটিত হওয়া নয়, ছয় গুণ বেড়েছে সদ্য অতীত হওয়া ২০২০-তে। এই হিংসার শিকার হয়েছেন কন্যা, জায়া ও জননীরা। সকলেই মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চান। লকডাউনের বছরে সেই প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে মেয়েদের, এমনই তথ্য রয়েছে রিপোর্টে। মহিলাদের ওপর অপরাধের ক্ষেত্রে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানাধিকারী যথাক্রমে যোগী আদিত্যনাথ ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের রাজ্য। তালিকায় তৃতীয় স্থানে হরিয়ানা। চতুর্থ মহারাষ্ট্র। মোট ২৩,৭২২টি অভিযোগের মধ্যে উত্তরপ্রদেশে ঘটেছে ১১,৮৭২টি ঘটনা। দিল্লিতে ২,৬৩৫, হরিয়ানায় ১,২৬৬ এবং মহারাষ্ট্রে ১,১৮৮টি। গৃহ হিংসার ঘটনায় দশম স্থানে থাকা বাংলায় অপরাধের সংখ্যা ৪৫৮।

মাসের নিরিখে বিচার করলে ২০২০-র জুলাই মাসে সর্বাধিক ঘটনা ঘটেছে। রেখা শর্মা জানিয়েছেন, ওই এক মাসে ৬৬০টি গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ তাঁদের কাছে এসেছে। লকডাউনের সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেননি। কারণ, অনলাইনে অনেকেই সড়গড় নন। তার ওপরে সেই সুবিধেও নেই অনেকের। গার্হস্থ্য হিংসার মধ্যে ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, যৌন হেনস্তার পাশাপাশি যৌতুক তথা পণ সংক্রান্ত বিষয়টিও রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ায় তাঁরা রিপোর্ট করছেন। আগে তাঁরা চেপে যেতেন বলে জানিয়েছেন পিপলস এগেনস্ট রেপ ইন ইন্ডিয়ার কর্ণধার যোগিতা ভায়ানা। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঘরোয়া হিংসাজনিত তথ্য বেশি পোস্ট হয়েছে। তাঁর কথায়, সহিষ্ণুতা না দেখিয়ে মহিলারা সরব হচ্ছেন, এটা ভালো লক্ষণ। গার্হস্থ্য হিংসার বিরুদ্ধে সরব হয়ে শামিনা শফিক বলেন, এতদিন পুরুষ মনে করেছে বউকে পেটানোই তাদের অধিকার। তা উপভোগও করেছে তারা। কিন্তু সেটা ভাবা ভুল। বিবাহিত জীবন মানে স্ত্রীর ওপর হিংসার আগুন ঢেলে দেওয়া নয়।