উত্তরাখণ্ড বিপর্যয়: হিমবাহ ভাঙা বন্যায় মৃত ১৪, নিখোঁজ ১৭০

165
সংগৃহীত

দেহরাদুন: ফের কেদারনাথের স্মৃতি ফিরে এসেছে উত্তরাখণ্ডে। তুষারধসে বিপর্যস্ত এলাকা। রবিবার প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছে একের পর এক গ্রাম। ধৌলিগঙ্গা, অলকানন্দা, ঋষিগঙ্গার জলে বিধ্বস্ত চামোলি ও জোশীমঠ। এখনও পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। নিখোঁজ অন্তত ১৭০ জন। তবে হতাহতের সংখ্যা কোথায় পৌঁছোবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

প্রসঙ্গত, তিনদিন ধরে ওই এলাকায় বৃষ্টিপাত চলছিল। শনিবার রাতেই জারি করা হয়েছিল সতর্কতা। এরপরই রাতে জোশীমঠে নন্দাদেবীর হিমবাহে ফাটল ধরতে শুরু করে। এর ফলে গতকাল সকালে তুষারধস নামে চমোলি জেলায়। হিমবাহ ভেঙে পড়ার পর প্রবল তোড়ে জল নেমে আসতে থাকে। চামোলি জেলার তপোবন এলাকার রানি গ্রামে ঋষিগঙ্গা বিদ্যুৎ প্রকল্পে হিমবাহ ভেঙে পড়ায় জলে ভেসে গিয়েছে আশেপাশের এলাকা। জলের দাপটে রেইনি গ্রাম এলাকায় হাউড্রো পাওয়ার প্রোজেক্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঋষিগঙ্গা বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত বহু শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। তবে ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের মধ্যেও হিমবাহের স্রোতে টানেলের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও অবিশ্বাস্যভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন ১৬জন কর্মী। বন্যার পর থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। এনডিআরএফ, আইটিবিপি ও সেনা জওয়ানরা উদ্ধারকাজ শুরু করেছেন। জোশীমঠে একটি ৩০ বেডের হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে।

- Advertisement -

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। মৃতদের পরিবারকে চার লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ যোজনা থেকে মৃতদের ২ লক্ষ টাকা এবং গুরুতর আহতদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। আট বছর আগে ২০১৩ সালে কেদারনাথে বন্যায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৫,৭০০ জনেরও বেশি মানুষ।