ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় পূর্ব বর্ধমানে হাসপাতালে বন্ধ টিকাকরণ

66

বর্ধমান: গোটা দেশে বেড়েই চলেছে কোভিড সংক্রমণ। প্রতিদিন মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে ব্যাপক হারে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের তরফে ‘কোভিড টিকাকরণ’ অভিযানের ব্যপ্তি ঘটানোর কথাও বলা হয়। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিটা যে সম্পূর্ণ উলটো তা বৃহস্পতিবার পরিষ্কার হল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিস্থিতি দেখে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে হাসপাতাল চত্বরে ফ্লেক্স ঝুলিয়ে লিখে দেওয়া হয়েছে ‘কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের সরবরাহ নেই’। এদিকে ভ্যাকসিনের সরবরাহ নেই জেনে জামালপুরে বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

ভোট উৎসবের মাঝেই রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাশাশি পূর্ব বর্ধমান জেলায়ও ব্যাপক হারে বেড়ে চলেছে করোনা সংক্রমণ। স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট বলছে, গত ২৯ এপ্রিল জেলায় ৫৫৮ জনের কোভিড সংক্রমণ ধরা পড়ে। স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুয়ায়ী কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি বর্ধমানে। তার মধ্যে জামালপুর ব্লকেও প্রতিদিন কোভিড আক্রান্তের হদিস মিলছে। কয়েকদিন আগেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে জামালপুর হাটতলা এলাকা নিবাসী এক ডেকেরেটর ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই জামালপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা টিকার জন্য বিগত কয়েকদিন ধরে জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। স্বাভাবিক নিয়ম মেনে টিকা দেওয়াও চললেও কোভিড ভ্যাকসিনের সরবরাহ না থাকায় গতকাল থেকে টিকাকরণ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। এই বিষয়ে জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক চিকিৎসক ঋত্বিক ঘোষ জানান, কোভিড ভ্যাকসিন শেষ হয়ে যাওয়ার পর এখনও পর্যন্ত ভ্যাকসিন আর হাসপাতালে পৌঁছায়নি। ভ্যাকসিনের সরবরাহ যে নেই তা জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্যই ফ্লেক্সে লিখে হাসপাপাল চত্ত্বরে লাগানো হয়েছে। ঋত্বিকবাবু আরও জানান, গত ২৫ জানুয়ারি থেকে জামালপুর হাসপাতালে কোভিডের টিকা দেওয়া শুরু হয়। প্রথমদিকে টিকা নেওয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ খুব কম ছিল। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে টিকা নেওয়ার বিষয়ে স্থানীয়রা আগ্রহ দেখান। সংক্রমণ হার ফের বাড়তে থাকায় গত তিন সপ্তাহ যাবৎ কোভিড টিকা নেওয়ার জন্য হাসপাতাল চত্ত্বরে মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে। শুক্রবার টিকা দেওয়া হবে এমন নিশ্চয়তা ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক দিতে পারেননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, এদিন যদি ভ্যাকসিন এসে যায় তবে শনিবার থেকে ফের টিকা দেওয়া শুরু হবে। জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক চিকিৎসক প্রণব রায় জানিয়েছেন, জেলায় ভ্যাকসিন অপ্রতুল থাকাতেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। ভ্যাকসিনের ঘাটতির জন্য এদিন জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ছাড়া জেলার আর কোনও হাসপাতালে এদিন টিকাকরণ বন্ধ ছিল কিনা সেই বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক কিছু জানাতে পারেননি। এমনকি ভ্যকসিন সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে সেই বিষয়েও সিএমওএইচ এদিন কিছু জানাননি।

- Advertisement -