ভ্যাকসিন নিয়ে বিভ্রান্তি নয়

136

কোভিড-১৯ মহামারি শেষ করতে হয়তো ভ্যাকসিনই সেরা আশা। সেকথা মাথায় রেখে দুটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)-এর কাছে আবেদন করেছে, যাতে তারা আপৎকালীন পরিস্থিতিতে ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমোদন পায়। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভ্যাকসিন নিয়ে বেশকিছু ভুয়ো তথ্য ছড়িয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ভ্যাকসিনের সুরক্ষা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিযে যথেষ্ট চিন্তিত। লিখেছেন আনন্দলোক মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালের চিফ কার্ডিয়াক সার্জন ডাঃ অর্ণব মাইতি।

ভ্যাকসিন নিয়ে যেসব ভুল ধারণা রয়েছে –

- Advertisement -

ধারণা : কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সুরক্ষিত নয়। কারণ সেগুলো খুব দ্রুত তৈরি এবং পরীক্ষা করা হয়েছে।

বাস্তব : বিশ্বব্যাপী মহামারি মোকাবিলায় বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি তড়িঘড়ি ভ্যাকসিন তৈরি করছে। তার মানে এই নয় যে, কোম্পানিগুলি সুরক্ষাবিধি মানেনি বা অপর্যাপ্ত টেস্ট করেছে। এক্ষেত্রে মায়ো ক্লিনিক সেই সব ভ্যাকসিন ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে, যেগুলো সুরক্ষার দিক দিয়ে নিশ্চিত। দৌড়ে অনেক ভ্যাকসিন থাকলেও সম্ভবত ফাইজার ভ্যাকসিনকেই এফডিএ আপৎকালীন পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য প্রথম অনুমোদন দিতে চলেছে। এই ভ্যাকসিন ভাইরাসের আণবিক গঠনের ওপর ভিত্তি করে এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে, যা প্রাণী উৎসের বিভিন্ন উপাদান থেকে মুক্ত এবং দক্ষতার সঙ্গে সংশ্লেষিত হয়েছে। এটা সেলমুক্ত প্রক্রিয়া এবং সংরক্ষণ করতে হয় না। ফাইজার / বায়োনটেক-এর তৈরি এই ভ্যাকসিন প্রায় ৪৩ হাজার মানুষের ওপর পরীক্ষা করা হয়েছে।

ধারণা : কোভিড সংক্রমণ থেকে সেরে উঠলে আর ভ্যাকসিনের প্রয়োজন নেই।

বাস্তব : একবার কোভিড-১৯এ সংক্রামিত হওয়ার পর একজন কতদিন পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকবেন বা আবার তাঁর সংক্রমণ হবে কি না, সে সম্পর্কে এখনও যথেষ্ট তথ্য নেই। এক্ষেত্রে মায়ো ক্লিনিকের পরামর্শ, কারও আগে কোভিড সংক্রমণ হলেও ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত। তবে টিকা নেওয়ার জন্য সংক্রমণ নির্ণয়ের পর অন্তত ৯০ দিন পর্যন্ত দেরি করা উচিত। রোগ নির্ণয়ের পর যাঁরা কোয়ারান্টিনে রয়েছেন বা যাঁদের কোভিডের উপসর্গ আছে, তাঁদের ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত নয়।

ধারণা : কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।

বাস্তব : কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনে স্বল্পমেয়াদি হালকা থেকে মাঝারি প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে, যা কোনও জটিলতা বা আঘাত ছাড়াই সমাধান করা যায। ফাইজার / বায়োনটেক-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের ভ্যাকসিন নিরাপদ। ১৫ শতাংশ লোকের মধ্যে ইনজেকশনের জায়গায় স্বল্পস্থায়ী উপসর্গ দেখা গিয়েছে। অর্ধেকের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত প্রতিক্রিয়া প্রধানত মাথাব্যথা, ঠান্ডা লাগা, ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা বা এক-দুদিনের জ্বর দেখা গিয়েছে।

মনে রাখতে হবে, এই ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিযা কিন্তু নির্দেশ করছে যে, আপনার ইমিউনো সিস্টেম ভ্যাকসিনে সাড়া দিচ্ছে। টিকা দেওয়ার সঙ্গে এইসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুব সাধারণ।

ধারণা : ভ্যাকসিন নেওয়ার পর মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই।

বাস্তব : যতক্ষণ পর্যন্ত না ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও বেশি তথ্য জানা যাচ্ছে, ততক্ষণ সাবধানতা যেমন- মাস্ক পরা, দূরত্ববিধি মেনে চলা এবং বারবার হাত ধোয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।

ধারণা : কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন বন্ধ্যাত্ব বা গর্ভপাতের কারণ।

বাস্তব : কোনও কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন বন্ধ্যাত্ব বা মিসক্যারেজের সঙ্গে সংযুক্ত নয়। একশ্রেণির লোক এই জাতীয ভ্রান্ত ধারণা সোশ্যাল মিডিযায প্রচার করছে, যার বৈজ্ঞানিক দিক থেকে কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। প্রথাগত গবেষণা না থাকলেও এক্ষেত্রে সব থেকে ভালো প্রমাণ হল, যাঁরা গর্ভাবস্থায় কোভিডে সংক্রামিত হয়েছেন। তথ্য স্পষ্ট বলছে, কোভিড সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে গর্ভবতীদের ঝুঁকি অনেক বেশি। মিসক্যারেজের হার বাড়ার কোনও প্রমাণ নেই।

ধারণা : ভ্যাকসিনে প্রিজারভেটিভ থাকায় তাদের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় রাখতে হয়।

বাস্তব : ফাইজার/বাযোনটেক এবং মডার্না জানিয়েছে, তাদের ভ্যাকসিনে প্রিজারভেটিভ নেই। এক-একটা ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে আলাদা তাপমাত্রার প্রযোজন হয়। যেমন-ফাইজার/বাযোনটেক-এর ভ্যাকসিন মাইনাস ৯৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটে রাখা উচিত। কিন্তু মডার্নার ভ্যাকসিনের জন্য মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন।