উৎসব উদ্দীপনায় নিশিগঞ্জে ভান্ডানি পুজো শুরু

325

নিশিগঞ্জ: দশমীর পর এবার রাজ্যে হচ্ছে না দুর্গাপুজোর কার্নিভাল। কিন্তু পুজোর পরও নতুন করে আয়োজনের আমেজ অব্যহত থাকে উত্তরের রাজবংশী সম্প্রদায়ের মধ্যে মা ভান্ডানি পুজোকে কেন্দ্র করে। এবছর দ্বিতীয় বর্ষে নিশিগঞ্জ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব ভোগমারা গ্রামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভান্ডানি পুজো।

বনজঙ্গলে ঘেরা হিমালয়ের পাদদেশে মা ভান্ডানি আসলে বনদুর্গা। জঙ্গলে বাঘের হাত থেকে বাঁচতেই এই পুজোর আয়োজন বলে অনেকে মনে করেন। মা দুর্গা এখানে সিংহ বাহিনি নয়। বাঘের পিঠে সওয়ার হয়ে বনদুর্গা পুজিত হন। করোনা আবহে নিশিগঞ্জ পূর্ব ভোগমারা গ্রামে দ্বিতীয় বর্ষ ভান্ডানি পুজো উপলক্ষে অবশ্য  লোকসংস্কৃতি উৎসব এবার হচ্ছে না।

- Advertisement -

পূর্ব ভোগমারা গ্রামে ভান্ডানি পুজো কমিটির সম্পাদক ভূবেন ডাকুয়া বলেন, রাজবংশী অধ্যুষিত আমাদের গ্রামে গত বছর প্রথম ভান্ডানি পুজোর আয়োজন করা হয়। রাজবংশী কৃষ্টি সংস্কৃতিকে ধরে রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার একাদশী থেকে শুরু হয়েছে পুজো। মানুষের ভীড় এবার করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।’

মা দুর্গা কৈলাসে ফিরে যাওয়ার পথে ফের পুজো পান রাজবংশী গ্রামে এমনই লোককথা। সমতলে পুজো নিয়ে কৈলাসের পথে ডুয়ার্সের ঘন জঙ্গলে একদল বালককে বাঘের ভয় দেখান মা দুর্গা। বালকরা ভয় পেয়ে পুজোর আয়োজন করে। কেউ বলেন কৈলাসে ফিরেও মায়ের মন ব্যাথিত তাই ফের ফিরে আসেন হিমালয়ের পাদদেশে লোকদেবী হিসাবে আজও তাই ভক্তি ভরে পুজিত হন মা ভান্ডানি। এই প্রতিমায় অসুর থাকেনা। মায়ের দশ হাতের পরিবর্তে এখানে চার হাত থাকে। কার্তিক, গনেশ, লক্ষী, সরস্বতী একই ভাবে দেখা যায়। স্থানীয় লোক সংস্কৃতির গবেষকদের মতে ৬০ বছর আগেও এই অঞ্চল বন জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল।

কোচবিহারের বিভিন্ন গ্রামে ছিল বাঘের উপস্থিতি। অরণ্যের জীব জন্তুদের, বিশেষ করে বাঘের হাত থেকে বাঁচতে এই পুজোর আয়োজন শুরু হয় জেলার বিভিন্ন এলাকায়। বাতাসা, দুধ, কলা প্রসাদে দেওয়া হয়। এমনকি পায়রাও উড়িয়ে দেওয়া হয় মায়ের নামে। আবার কেউ মনে করেন, গ্রামের শস্য ভান্ডার মজুত রাখতেই মা ভান্ডানি পুজিত হয়। তবে ভান্ডানি পুজোর আয়োজন করতে ইতিমধ্যেই সকাল থেকেই তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে নিশিগঞ্জ পূর্ব ভোগমারা গ্রামের পুজো আয়োজকদের মধ্যে।