সাহুডাঙ্গি আশ্রমের হরেক প্রজাতির গাছ বিশ্বের দরবারে

316

সানি সরকার, শিলিগুড়ি: বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালির জন্য বিশ্বের দরবারে পরিচিতি ঘটল জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের সাহুডাঙ্গি রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ আশ্রমের। স্বীকৃত বোটানিক্যাল গার্ডেনের সঙ্গে আশ্রমের গাছগাছালির তুলনা টেনে, কেন আশ্রমের বাগানকে বোটানিক্যাল গার্ডেনের স্বীকৃতি দেওয়া যায় না, সেই প্রশ্নই বুধবার কার্যত তুলে ধরলেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তথা স্কাই ওয়াচার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ নর্থবেঙ্গল (সোয়ান)-এর সদস্য কৌশল আগরওয়াল। কোওরোওপিটা গুইয়ানেনসিস, প্যাসিফ্লোরার মতো শত শত অপরিচিত গাছকে জিও ট্যাগ করে যে নাগালের মধ্যে তাঁরা নিয়ে এসেছেন, সেই তথ্যও তিনি তুলে ধরলেন ইন্ডিয়ান ইনটারন্যাশনাল সায়েন্স ফেস্টিভালে উপস্থিত দেশি-বিদেশি বিজ্ঞানীদের সামনে। কৌশলের প্রেজেন্টেশনে বাহবা কুড়োল সোয়ানের উদ্যোগ। ফলে যথেষ্টই আপ্লুত সোয়ানের সম্পাদক দেবাশিস সরকার। তিনি বলেন, পায়ের তলায় শক্ত মাটি থাকলেই আকাশটা ভালো করে দেখা যায়। এই উপলব্ধি থেকেই কয়েকজন পড়ুয়াকে নিয়ে প্রযুক্তির সাহায্যে রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ আশ্রমের গাছগাছালির পরিচিতি ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আরও অনেক কাজ করতে হবে আমাদের।

সাহুডাঙ্গি রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ আশ্রমে রয়েছে নাগালিঙ্গম বা ক্যাননবল ট্রি। যার বিজ্ঞানসম্মত নাম কোওরোওপিটা গুইয়ানেনসিস। রয়েছে নাগেশ্বর চম্পা থেকে প্যাসিফ্লোরার মতো অপরিচিত শত শত গাছ। যা অনেক বোটানিক্যাল গার্ডেনেও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এমন কিছু গাছের কথাই বুধবার কলকাতার বিশ্ববঙ্গ কনভেনশন সেন্টারে ইন্ডিয়ান ইনটারন্যাশনাল সায়েন্স ফেস্টিভালের দ্বিতীয় দিনে তুলে ধরলেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএসসি-র বোটানি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র কৌশল আগরওয়াল। পঞ্চম বর্ষ এই বিজ্ঞান উত্সবের আয়োজক দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রক। রাইসেন ইন্ডিয়া এবারের উত্সবের থিম। অর্থাত্ রিসার্চ (গবেষণা), ইনোভেশন (উদ্ভাবন), সায়েন্স (বিজ্ঞান), এমপাওয়ারিং দ্য নেশন (প্রযুক্তিতে দেশের অগ্রগতি)-এর মতো বিষয়গুলিকে এবছর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাহুডাঙ্গি আশ্রমে নানা প্রজাতির দুষ্প্রাপ্য গাছ থাকলেও, তা অধিকাংশ মানুষের কাছে অজানা ছিল। গাছগুলি সম্পর্কিত তথ্য সামনে নিয়ে আসতে যে তাঁরা জিও ট্যাগ লাগিয়ে গুগল ম্যাপের সঙ্গে লিংক করেছেন, সেই কথাও এদিন জানান উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধি কৌশল। ফলে ঘরে বসেই গাছগুলি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য পেয়ে যাচ্ছেন গাছপ্রেমীরা। কৌশলের বক্তব্য, বোটানিক্যাল গার্ডেনে থাকা গাছ সম্পর্কিত তথ্য জানার ক্ষেত্রে অনেক ধাপ পেরোতে হয়। কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে মেলে গাছটির সম্পর্কে হার্ডকপি। কিন্তু ঘরে বসেই যাতে সাহুডাঙ্গি আশ্রমে থাকা গাছগুলি সম্পর্কে তথ্য জানা সম্ভব হয়, সেই চেষ্টা করা হয়েছে সোয়ানের তরফ থেকে। তাঁদের এই উদ্যোগকে উপস্থিত প্রফেসার সঞ্জীব নাগ, ডঃ জি এন শাস্ত্রী, বিভা ট্যান্ডনের মতো বিজ্ঞানীরা তারিফ করেছেন বলে জানান কৌশল। সোয়ান সূত্রে জানা গিয়েছে, কৌশল আগরওয়াল, প্রত্যয় চৌধুরি, জীবনানন্দ দাসের মতো কয়েকজন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া গাছগুলি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। জিও ট্যাগ সহ প্রযুক্তির ব্যবহার সংক্রান্ত কাজগুলি করেছেন জন্মেজয় সরকার। দেবাশিসবাবুর বক্তব্য, তাঁদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল সাহুডাঙ্গি আশ্রমের গাছগুলি নিয়ে তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা। এখন তাঁদের লক্ষ্য বিশেষ অ্যাপ তৈরি করা। যাতে আশ্রমে গিয়ে নির্দিষ্ট একটি কিউআর কোড ব্যবহার করে কোথায় কোন গাছ রয়েছে, অনায়াসে জানতে পারেন সাধারণ মানুষ। সেই গাছের কাছে পৌঁছেও যেতে পারেন তাঁরা। অ্যাপটি তৈরি সম্ভব হলে উত্তরবঙ্গের বোটানির পড়ুয়ারা উপকৃত হবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাসী তিনি।

- Advertisement -