লকডাউনের জেরে তলানিতে ঠেকেছে সবজি রপ্তানি

291

তপন কুমার বিশ্বাস, ইসলামপুর: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশজুড়ে লকডাউন চলার জেরে সবজি রপ্তানি তলানিতে ঠেকেছে। বেশিরভাগ পাইকারি বাজার ও মান্ডি বন্ধ থাকায় বা কেনাবেচা তলানিতে ঠেকায় কাঁচা সবজির বিক্রিবাট্টায় সমস্যা দেখা দিয়েছে।

বহু জায়গায় সবজি মাঠেই পড়ে থাকছে। তার উপর সম্প্রতি বৃষ্টির জেরে কিছু সবজি মাঠে পচতে শুরু করেছে। কোনও উপায় না থাকায় কৃষকরা বিপুল পরিমাণে সবজি নিয়ে ইসলামপুর, পাঞ্জিপাড়া, কানকি, ডালখোলা, টুঙ্গিদিঘির হাটে উপস্থিত হন। কিন্তু তাঁরা সবজির দাম পাননি। সমস্যার জেরে কৃষকদের অনেককে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। বাঁধাকপি বিক্রি করে কেজি প্রতি ১ টাকা, বেগুনে ৪ টাকা, টমেটোয় ৫ টাকা, লংকায় ৮ টাকার মতো মিলছে বলে কৃষকদের অভিযোগ।

- Advertisement -

আরও পড়ুন: কামাখ্যাগুড়ি সুপার মার্কেটে বোমা বিস্ফোরণে জখম ৫, আশঙ্কাজনক ১।

কৃষি বিপনন ও কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কৃষকদের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। লকডাউনের জেরে সবজি রপ্তানি একেবারেই কমে গিয়েছে। সম্প্রতি বৃষ্টিতে সমস্যা আরও বেড়েছে। কৃষকরা সমস্যায় পড়লেও একশ্রেণির ফড়ে মুনাফা লুটছে। তাঁরা কৃষকদের কাছে যতটা সম্ভব কম দামে কাঁচা সবজি কিনে তা খুচরো ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছে। পরে ওই খুচরো ব্যবসায়ীরা আরও বেশি দামে ওই সবজি সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করছেন।

ইসলামপুর মহকুমার সবচেয়ে বড় পাইকারি সবজি বাজার হিসাবে পরিচিত কানকি বাজার। ওই বাজারে বিহারের পূর্ণিয়া, কাটিহার, কিষাণগঞ্জ থেকে প্রচুর পাইকার ভিড় করত। কিন্ত লকডাউনের জেরে তাঁরা কেউ আসতে পারছে না।

লকডাউনের জেরে তলানিতে ঠেকেছে সবজি রপ্তানি| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

চাষিরা বলেন, ‘প্রচুর পরিমাণে সবজি আমদানি হওয়ায় স্থানীয় ফড়েরাও এসব কিনতে চাইছে না। যোগাযোগ করে দুজনকে বাড়িতে ডেকে ৮/১০ টাকা কেজিতে ঝিঙে এবং ১৫-২০ টাকা কেজিতে পটল বিক্রি করছি। অথচ বাজারে গিয়ে দেখছি, ঝিঙে কেজিতে ৩০-৪০ টাকা এবং পটল কেজিতে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

কানকি বাজারের পাইকার গণেশ সরকার বলেন, ‘ভিনরাজ্যে সেভাবে সবজির চাহিদা নেই। অন্যান্য সময় প্রতিদিন ৩০-৪০ গাড়ি সবজি রপ্তানি হলেও এখন মাত্র এক-দুই গাড়ি সবজি বাইরে যাচ্ছে। তাই সমস্যা হচ্ছে। চাষিদের সমস্যার বিষয়টি আমরা বুঝতে পারলেও কিছুই করার নেই।’

আরও পড়ুন: ভর্তুকি না দিলে গাড়ি চালাবেন না উত্তর দিনাজপুরের বাস মালিকরা

সারা ভারত কৃষকসভার উত্তর দিনাজপুর জেলা কমিটির সম্পাদক সুরজিৎ কর্মকার বলেন, ‘কৃষকের জমির প্রতিটি ফসলের ন্যূনতম দাম নির্ধারণ করে দিতে আমরা ইতিমধ্যেই কৃষি দপ্তরের কাছে অনুরোধ করেছি।’

স্থানীয় কানকি গ্রাম পঞ্চায়েতের দেওগাঁ আমবাড়ির সবজি চাষি শুকচাঁদ সরকার বলেন, ‘টমেটো পেকে পচে যাচ্ছে। বেগুন গাছে পেকে যাচ্ছে। মহাজনের কাছ ঋণ করে চাষ করেছিলাম। ফসলের দাম নেই। এছাড়া লকডাউনের সময় অন্য কাজেরও উপায় নেই। সংসার কীভাবে চলবে ভেবে কোনও কূলকিনারা পাচ্ছি না।’

কৃষি বিপণন দপ্তরের আধিকারিকরা চাষিদের কোনও আশার আলো দেখাতে পারছেন না। ওই দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে কিছুই করতে পারছি না। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’