বীরপাড়া :  কথা ছিল, সবজি বাজারের জন্য  গ্রাম পঞ্চায়েতের কেনা পৌনে চার বিঘা জমিতে পাইকারি বাজার হবে। সেইমতো অনেক আগেই শেড তৈরি হয়ে গিয়েছে । শুধু  পঞ্চায়েত সমিতির অনুমোদন না মেলায় ১৪ বছরেও পাইকারি সবজি বাজার চালু হয়নি খগেনহাটের বানিয়াপাড়ায়। এলাকার সবজি ব্যবসায়ী ঘনশ্যাম দাস, প্রমোদ রায়, পুলিন রায়রা অনেক কষ্ট করে ১৫ কিমি দূরে ধূপগুড়ি সুপার মার্কেট থেকে সবজি কিনে খগেনহাট, বিন্নাগুড়ি, ডিস্কোবাজার, নরসিংপুর, কালীবাড়ি, মা ভান্ডানিহাট, এথেলবাড়ি এই সমস্ত হাটে বিক্রি করেন। আবার কৃষি নির্ভরশীল খগেনহাটের উৎপাদিত শাকসবজি ধূপগুড়ি সুপারমার্কেট নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে বাধ্য হন কৃষকরা। এতে চাষিদের মুনাফা কম হয়, অনেকটা সময়ও নষ্ট হয়। এলাকার কৃষকরা বলেন, যদি খগেনহাটের বানিয়াপাড়ার এই জমিতে পাইকারি সবজি বাজার চালু হত, তাহলে এখানকার কৃষকরা এখানেই সবজি বিক্রি করতে পারতেন। সবজি ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হতেন।  এলাকার অর্থনীতিও চাঙ্গা হত। স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান হত।

খগেনহাটের খুচরো সবজি বাজারটি এলাকা বাড়ানোর মতো জায়গা না থাকায় পঞ্চায়েতের ওই জমিতে পাইকারি বাজার সরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন খগেনহাটের ব্যবসায়ীদের অনেকেই।  ধনীরামপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান কমলেশ্বর রায় বলেন, ‘ ২০০৫ – এ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন রাস্তায় বনসৃজন লাগানো গাছ বিক্রি করে সবজি মার্কেটের জন্য খগেনহাটের বানিয়াপাড়ায় পৌনে চার বিঘা জমি কেনা হয়। সেসময় ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতিতে একটি প্রস্তাব পাঠানো হলে। দুটি শেড তৈরি করে দেওয়া হয়। কিন্তু পাইকারি সবজি বাজার নিয়ে বিষয়টি আর এগোয়নি। এরপর রাজ্য রাজনীতি পরিবর্তন হয়। তারপর বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে গিয়েছে।’

এলাকাবাসীর অভিযোগ,  ১৪ বছর পেরিয়ে গিয়েছে, তবু বাজার তৈরি হল না। এলাকার জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন স্থানীয় মানুষ। হতাশার সুরে স্থানীয় যুবক ধীরাজ রায় বলেন, ‘ পাইকারি বাজার চালু হলে সবজি চাষিরা এখানে সঠিক মূল্যে তাঁদের উৎপাদিত শাকসবজি বিক্রি করতে পারতেন। বাইরের সবজি ব্যবসায়ীরা  বীরপাড়া, বিন্নাগুড়ি, জয়গাঁ, এথেলবাড়ি, মাদারিহাট এলাকা থেকে এখানে সবজি কেনার জন্য সহজে আসতেন। এতে এলাকার উন্নয়ন ঘটত। রাজ্য সরকার বিভিন্ন জায়গায় প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে কিষানমান্ডি তৈরি করেছে। অথচ এখানে প্রয়োজন থাকলেও তা হল না।’ এলাকার উন্নয়ন ও কৃষকদের স্বার্থে খগেনহাটে পাইকারি সবজি বাজার চাইছেন এলাকার সকলেই।

ধনীরামপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নিতাই দাস বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত এখানে সবজি মার্কেট করার সিন্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে পঞ্চায়েতের অন্য একটি জায়গায় মার্কেট কমপ্লেক্স করার কাজ খুব তাড়াতাড়ি শুরু হবে।’

ফালাকাটার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুরেশ লালা বলেন, ‘ওই বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

ছবি- শেড তৈরির পরে মার্কেট হয়নি।

তথ্য ও ছবি -সুনীল রায়