জাতীয় সড়ক ঘেঁষে সবজির বাজার, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা

214

নিবারণ দাস, টুঙ্গিদিঘি : জাতীয় সড়কের ধার ঘেঁষে সবজির বাজার। খরিদ্দারের ভিড় রাস্তার ওপর নেমে আসে। অথচ এই রাস্তা দিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে যায় বড়ো বড়ো লরি, গাড়ি। ফলে যেকোনো মুহূর্তে রায়গঞ্জের শীতগ্রামের পানিশালা হাট ঘিরে ভয়ংকর দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকে যায়।

ঠিক কবে এই হাট শুরু হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। নানা ব্যক্তি নানাভাবে এই হাটের সূচনাপর্বকে চিহ্নিত করেছেন। চিহ্নিত করেছেন হাটের প্রতিষ্ঠাতাকে। তবে ড. বৃন্দাবন ঘোষ তাঁর রায়গঞ্জের হাটের কথা প্রবন্ধে জানান, ১৯৪০ সালে হাজি কুরবান আলির উদ্যোগে এই হাটের সূচনা হয়েছিল। কয়েক দশকের পুরোনো এই হাট এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। এলাকার প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, সূচনার সময় এই হাটের বিস্তার ছিল খুব কম। কয়েকটি দোকানঘর ছিল। কিছু অংশ জুড়ে বসত সবজি বাজার। সময় এগোনোর সঙ্গে সঙ্গেই এই হাটের বিস্তারও ঘটে দ্রুত। তৈরি হতে থাকে একের পর এক দোকান। ২০০০ সালে রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে এখানে বানানো হয় মার্কেট কমপ্লেক্স। এরপর ব্যক্তিগত উদ্যোগেও বানানো হয়েছে বেশকিছু দোকানঘর। আর এই মার্কেট আর দোকানের সংখ্যা যতই বৃদ্ধি পেয়েছে, ততই কমেছে সবজি বাজারের জমির পরিমাণ। ফলে সবজির বাজার উঠে এসেছে জাতীয় সড়কে। সকাল-বিকেল দু’বেলাই ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের একেবারে পাশে সবজির বাজার বসছে। ফলে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। জাতীয সড়কে প্রচুর গাড়ি চলাচল করে। তার ওপরে বাজারে আসা মানুষজনও ভিড় জমান রাস্তার ওপর। ফলে যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

পরেশ বর্মন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ফুটপাথ ঘেঁষে এভাবে বাজার বসার ফলে যানজট হয়। এমনকি দুর্ঘটনাও ঘটেছে প্রায়ই। বছর কয়েক আগে একটি লরি নিযন্ত্রণ হারিয়ে বাজারে ঢুকে গিয়েছিল। রাস্তার ধার ঘেঁষে যেভাবে সবজি বাজার বেড়ে চলছে দিনের পর দিন, তাতে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। প্রশাসন যদি এই সবজি বাজারটি স্থানান্তরে পদক্ষেপ করে, তাহলে ভালো হয়। বাপি বর্মন নামে এক ব্যক্তি বলেন, দিনের পর দিন যেভাবে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশ দিয়ে সবজি বাজারটি বেড়ে চলেছে তা ভীষণ ভয়ের। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সবসময় ভয়ের মধ্যে বাজার করতে হয়। শীঘ্রই এই সবজি বাজারটি স্থানান্তরে উদ্যোগী হওয়া উচিত। এবিষযে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মনোরঞ্জন দাস বলেন, ৩৪ নম্বর জাতীয সড়কের সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে সবজি বাজারের জমির অনেকটাই রাস্তার অংশ হয়ে যাবে। তবে চিন্তার ব্যাপার তেমন নেই। পানিশালা গ্যাস প্ল্যান্টের পাশে যে পুকুর আছে তার পাড়েই সবজির বাজার বসানোর ভাবনা চলছে। আশা করি কিছুদিন পর ওখানেই সবজির বাজার বসবে। ফলে যানজটও কমবে।