বেহাল রাজ্য সড়কে বিগড়োচ্ছে গাড়ি, দ্রুত সংস্কারের দাবি

258

সৌরভ রায়, ফাঁসিদেওয়া: বেহাল রাজ্য সড়ক। আর সেই কারণেই পথচলতি চারচাকা গাড়ির স্প্রিং-পাতি ভাঙছে। গাড়ির নাটবল্টু খুলে রাস্তায় বিকল হয়ে পড়ছে গাড়ি। বছরে তিন থেকে চারবার গাড়ি সারাই করতে গিয়ে ফাঁকা হাতে বাড়ি ফিরছেন চটহাট রুটের গাড়ির চালক এবং মালিকরা। ফাঁসিদেওয়া ব্লকের গোয়ালটুলি থেকে চটহাট পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তা খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। বৃষ্টির জমা জলে গর্তের গভীরতা বুঝতে না পেরে মাঝেমাঝেই ভয়াবহ দুর্ঘটনাগ্রস্থ হচ্ছেন নিত্যযাত্রীরা। দৈনিক কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন। দীর্ঘদিন থেকে চটহাটগামী প্রধান রাস্তা বেহাল থাকলেও প্রশাসনের হেলদোল নেই বলে অভিযোগ।

বেহাল রাজ্য সড়ক নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে ওই পথে যাতায়াতকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। টেন্ডারের পর সম্প্রতি সারাইয়ের কাজ শুরু হয়েছিল। তবে, নিতবাজার সংলগ্ন এলাকায় নিম্নমানের কাজের অভিযোগে স্থানীয়রা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এদিকে, স্থানীয়দের মধ্যে দ্রুত রাস্তা মেরামতির দাবি জোরালো হয়েছে। ফাঁসিদেওয়ার বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার জানিয়েছেন, নতুন করে রাস্তা তৈরি করতে প্রায় ৭ কোটি টাকা প্রয়োজন। ২ কোটি টাকায় রাস্তা মেরামতির কাজ শুরু করা হয়েছিল। স্থানীয়রা বুঝতে না পেরে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সেই কারণে স্থানীয়দের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রয়োজনে তিনি ফের এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন।

- Advertisement -

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৬৪ সালে ফাঁসিদেওয়ার গোয়ালটুলি থেকে চটহাট এলাকাকে সংযুক্ত করতে প্রশাসনের তরফে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর একাধিকবার রাজ্য সড়ক সারাই করা হয়েছিল। কিন্তু, প্রচুর পরিমাণে দৈনিক বালির ডাম্পার এবং ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে রাস্তা বেহাল হয়ে পড়ে। বছর দুয়েক আগে রাস্তাটি বেহাল হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ ৭ কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে শুধুই খানাখন্দ। আর বর্ষায় তাতে জল জমে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়িয়েছে।

দৈনিক চটহাট বাঁশগাও কিশমত গ্রাম পঞ্চায়েত, ফাঁসিদেওয়া বাঁশগাও কিশমত গ্রাম পঞ্চায়েত, বিধাননগর ১ এবং ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা ওই পথেই যাতায়াত করেন। বেহাল রাস্তার কারণে দৈনিক ১০ হাজারেরও বেশি নিত্যযাত্রী বিপাকে পড়ছেন। বিষয়টি এলাকার নিত্যযাত্রীদের মধ্যে ব্যপক ক্ষোভ জমেছে। এছাড়াও, ওই রুটের গাড়ির চালকরাও রীতিমতো তিতিবিরক্ত। কখনও গাড়ির নাটবল্টু খুলে ভাঙা রাস্তার জমা জলে পড়ছে, কখনও ভাঙছে গুল্লা। আর সেই কারণে চালক রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রীদের অন্য গাড়িতে তুলে দিচ্ছেন। সমস্যায় পড়ছেন যাত্রীরাও। করোনা পরিস্থিতিতে যেখানে গাড়ির মালিকদের আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা, সেখানে এভাবে গাড়ি রাস্তায় বের করে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন। গাড়ি মালিকদের পাশাপাশি, স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত ওই রাস্তা মেরামতির দাবি তুলেছেন।

লকডাউনের আগে রাস্তা মেরামতির টেন্ডার হলেও, সম্প্রতি ঠিকাদার সংস্থা কাজ শুরু করেছেন। তবে, নির্মাণ নিয়ে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। এতদিন পর যাও রাস্তার কাজ শুরু হল, এবারে তাও থমকে পড়েছে। এনিয়ে স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন। চটহাটের বাসিন্দা আনবারুল হক, নয়াহাট বাজারের বাসিন্দা তহির আলম জানান, ভাঙা রাস্তায় বৃষ্টির জল জমে দুর্ঘটনা ঘটছে। দৈনিক হাজার হাজার মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। যাও রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে, তাও নিম্নমানের কাজ হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে৷

ওই রুটের এক গাড়ি চালক দীপু দাস বলেন, বছরে প্রায় ৪ বার বাসের স্প্রিং পাতি সারিয়েছি। প্রতি বার ৬ হাজার করে ২৪ হাজার টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। তিনি আরও জানান, কখনও আবার গাড়ির বডি হেলে যাচ্ছে। এদিকে, এখন যাত্রী কম। খুব বাজে পরিস্থিতি। আরেক চারচাকা যাত্রীবাহী গাড়ির চালক জানান, তিনবার গাড়ির স্প্রিং-পাতি ভেঙেছে, শুধু বেহাল রাস্তার কারণে। ৯ হাজার টাকা খরচ হয়েছে গাড়ি সারাতে। এছাড়াও, ভারী গাড়ির গুল্লা ভেঙে যাচ্ছে। একবার গুল্লা ভাঙলে প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হয় তা সারাতে। তিনি দাবি করেন, অবিলম্বে দ্রুত রাস্তা মেরামত করার জন্য প্রশাসনকে আর্জি জানাচ্ছি। চটহাটের গ্রাম প্রধান সুমন টোপ্পো বলেন, রাস্তার কাজ শুরু হলে সমস্যা মিটে যাবে।