টোল ফাঁকি দিতে ঘুরপথে গাড়ি, রাস্তায় ধুলোয় জেরবার

135

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা : টোল ট্যাক্স ফাঁকি দিতে ঘুরপথে সরু রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে শয়েশয়ে গাড়ি। ফলে আরও বেহাল হয়ে পড়েছে মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের ছেকামারি থেকে রাঙ্গালিবাজনা মোহনসিং হাইস্কুল পর্যন্ত রাস্তাটি। পাশাপাশি, এত যানবাহন চলাচলের ফলে সারাদিন ধুলোয় ঢেকে থাকছে রাস্তা সহ সন্নিহিত এলাকাগুলি। তিতিবিরক্ত গ্রামবাসীরা ইতিমধ্যেই খয়েরবাড়ির গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান জয়দেব দাস, মাদারিহাটের বিডিও শ্যারণ তামাং ও মাদারিহাট থানার ওসি টিএন লামাকে বিষয়টি নিয়ে গণস্বাক্ষর সংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছেন। তবে তাতে কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁরা জানিয়েছেন, মূলত যাত্রীবাহী ও মালবাহী ছোট ছোট গাড়িগুলিই টোল ট্যাক্স বাঁচাতে ছেকামারি ও পশ্চিম খয়েরবাড়ি হয়ে চলাচল করছে।

মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের রাঙ্গালিবাজনা চৌপথির কাছে ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ে ওপর চালু হয়েছে টোল প্লাজা। টোল গেট পার হতে গাঁটের কড়ি খরচ করতে হচ্ছে। তাই টোল ট্যাক্স ফাঁকি দিতে ঘুরপথে মধ্য ছেকামারি ও পশ্চিম খয়েরবাড়ির ভেতর দিয়ে যাওয়া সরু রাস্তাটি ব্যবহার করছেন অনেকেই। ছেকামারি চৌপথি থেকে ওই রাস্তাটি ব্যবহার করে ঘুরপথে রাঙ্গালিবাজনা চৌপথিতে ফের এশিয়ান হাইওয়েছে ওঠা যায়। ১,৬০০ মিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটির মাঝের ৯০০ মিটার অংশ কংক্রিট দিয়ে ঢালাই করা হলেও রাস্তার দুটি মুখের একদিকে ৪০০ মিটার ও অন্যদিকে ৩০০ মিটার কাঁচাই রয়ে গিয়েছে। রাস্তার কাঁচা অংশটির ইতিমধ্যেই বেহাল দশা।

- Advertisement -

স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টি হলে ওই রাস্তায় চলাচল করাই মুশকিল হয়ে পড়ে। তার ওপর সারাদিন ধরে ওই রাস্তায় যানবাহন চলাচলের ফলে রাস্তাটি আরও বেহাল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা অনন্ত রায়, মাধবী রায়, প্রশান্ত রায় জানিয়েছেন, ভারী গাড়ির চাপে ওই রাস্তাটির কংক্রিটের অংশটুকুও বিভিন্ন জায়গায় ভেঙেচুরে গিয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে ধুলোর জন্য। পশ্চিম খয়েরবাড়ির বাসিন্দা ভুবন হাজরা বলেন, যানবাহন চলাচলের ফলে রাস্তা থেকে ওড়া ধুলোয় সংলগ্ন এলাকাগুলি ঢেকে থাকছে। আমাদের বসবাস করাই মুশকিল হয়ে পড়েছে।এলাকার প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য শৈলেন রায় বলেন, ওই রাস্তা দিয়ে এত যানবাহন চলাচল করছে যে, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা রাস্তায় যে কোনও মুহূর্তেই দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। অথচ, এশিয়ান হাইওয়ে ছেড়ে গ্রামের সরু রাস্তা দিয়ে এত যানবাহন চলাচল করতে পারে না। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের নজরে আনা হলেও লাভ হয়নি।

মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা হৃষিকেশ রায় বলেন, মাঝে মাঝেই যানজট হচ্ছে ওই রাস্তায়। যানবাহনের চাপে রাস্তাটিও ভেঙেচুরে গিয়েছে। সেটি মেরামতেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আবার এশিয়ান হাইওয়ে থেকে এই রাস্তায়  যানবাহনগুলি এই রাস্তায় চলে আসা আটকাতেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে মাদারিহাটের বিডিও শ্যারণ তামাং বলেন, বিষয়টির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। পুলিশকেও নজর রাখতে বলা হচ্ছে।