পুজোয় কী কী মেনে চলতে হবে, আদালতের রায় বিস্তারিত জানুন

411
শ্রীভূমি ক্লাবের পুজো মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়।

কলকাতা: পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। অর্থাৎ রাজ্যের কোনও পুজো মণ্ডপেই দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন না। রাজ্যে লাগাতার বেড়ে চলা করোনা সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে এই নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার ব্যাপারে পুলিশকে সক্রিয় হতে হবে। আদালতের নির্দেশ লিফলেট আকারে প্রতিটি পুজো কমিটিকে পৌঁছে দেবে পুলিশ।

আদালতের বিধি কতটা মানা হল সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আদালতে জমা দিতে রাজ্য সরকারকে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সারা রাজ্যে পুজোয় কেমন ভিড় হল না হল, নির্দেশ কেমন কার্যকর হল তা লক্ষ্মী পুজোর চার দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারকে হলফনামা দিয়ে সেই রিপোর্ট দিতে হবে।

- Advertisement -

মামলার রায়ে আদালত বলে, ধর্মাচরণে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। কিন্তু মহামারীর সময়ে উৎসবে অনুমতি দেওয়া যায় না। তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। অন্যদিকে, করোনা সংক্রমণ রুখতে পুজো দর্শনে যেভাবে হাইকোর্ট নির্দেশ জারি করল, তা ঐতিহাসিক বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন, পুজো মণ্ডপ দর্শক শূন্য থাকবে। প্রতিটি পুজো মণ্ডপ চত্বরকে কনটেনমেন্ট জোন হিসেবে ধরা হবে। ছোট মণ্ডপের ক্ষেত্রে ৫ মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। আর বড় মণ্ডপের ক্ষেত্রে বজায় রাখতে হবে ১০ মিটার দূরত্ব। পুজো মণ্ডপ লাগোয়া এলাকায় ব্যারিকেড ও নো এন্ট্রি লাগাতে হবে। পাশাপাশি সংক্রমণ রুখতে সচেতনতামূলক প্রচারেরও নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। রাজ্যের প্রতিটি পুজোর ক্ষেত্রেই এই রায় প্রযোজ্য হবে।

এছাড়াও, এদিন কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছেন, বড় পুজোর ১০ মিটার ও ছোট পুজোর পাঁচ মিটারের মধ্যে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। মণ্ডপের শেষ অংশ থেকে দূরত্বের পরিমাপ করতে হবে। স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় পুজো কমিটির আদালতের বিধি কার্যকর করবে। বড় পুজোর ক্ষেত্রে ২৫ জন এবং ছোট পুজোর ক্ষেত্রে ১৫ জন মণ্ডপের ভিতর পুজোর কাজ করতে পারবেন। যদিও  কোন পুজো ছোট বা কোন পুজো বড় তা ঠিক করবে পুলিশ।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকার পুজোর বিধি সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল। সে ব্যাপারে আদালত বলেছে, অত্যন্ত সৎ উদ্দেশ্য। কিন্তু শুধু ইচ্ছে থাকলেই হবে না। তাকে প্রয়োগ করতে হবে।

পুজোর বিষয়ে কেন আদালত হস্তক্ষেপ করল সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে। আদালাত জানিয়েছে, এখনও স্কুল-কালেজ স্বাভাবিক ভাবে খোলেনি। বাচ্চারা মাঠে খেলতে যেতে পারছে না। মানুষ মারা যাচ্ছেন। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন ভিড় কমাতে। এইরকম গুরুতর পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়ায লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে পড়বেন তা হয় না।