রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : পুজোর মরশুমের আগেই বেহাল হয়ে পড়েছে কালিম্পং এবং সিকিমের লাইফলাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। সেবকের পর থেকে তিস্তাবাজার পর্যন্ত রাস্তায় বেশিরভাগ জায়গাতেই বড়ো বড়ো গর্ত হয়ে গিয়েছে। য়ে রাস্তা যেতে ৪৫-৫০ মিনিট সময় লাগার কথা, বর্তমানে সেই রাস্তা যেতে অন্তত দুই ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। ফলে নাজেহাল হচ্ছেন পর্যটক থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রী, গাড়ির চালক সকলেই। আসন্ন পুজো মরশুমে রাস্তার হাল এমনই থাকলে পর্যটন ব্যবসাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে পর্যটন ব্যবসাযীরা জানিয়েছেন। ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের দায়িত্বে থাকা পূর্ত দপ্তরের জাতীয় সড়ক (ডিভিশন-৯) বিভাগের এগ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অনুপ মাইতি সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেন, বালি-পাথর তোলায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমরা কাজ করতে পারিনি। এই নিষেধাজ্ঞা উঠেছে। পুজোর আগেই অন্তত বড়ো বড়ো গর্তগুলি বুজিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেবক থেকে তিস্তাবাজার পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার রাস্তা গত দেড়-দুইমাস ধরে পুরোপুরি বেহাল হয়ে পড়েছে। কালীঝোরা বাজারের আগে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র তিস্তা লো ড্যাম প্রোজেক্ট ৪-এর সামনে থেকে শুরু করে বহু জায়গায় রাস্তা পুরোপুরি বেহাল হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কালীঝোরা, লোহাপুল, শ্বেতিঝোরা, হনুমানঝোরা এলাকায়। কোনো কোনো জায়গায় বড়ো বড়ো গর্ত হয়ে রয়েছে, যেগুলিতে ছোটো গাড়ির চাকা পড়লেই গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। কিছু জায়গায় রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে ধুলোয় চারিদিক ভরছে। ফলে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। এই পথেই নিয়মিত শিলিগুড়ি থেকে সিকিম এবং কালিম্পংয়ে মালপত্র নিয়ে যান গাড়িচালক মনোজ কার্কি। তিনি বলেন, সেবক পার হওয়ার পরেই গাড়ি আর চালানো যায় না। এত বড়ো বড়ো গর্ত, মনে হয় এই বুঝি গাড়ি তিস্তা নদীতে উলটে গেল। সেবক থেকে তিস্তাবাজার যেতেই আমাদের প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। আবার এই বেহাল রাস্তায় কোনো গাড়ি যদি মাঝরাস্তায় খারাপ হয়ে যা, তাহলে তো দিনভর যানজট। এত গুরুত্বপূর্ণ একটা জাতীয় সড়ক কেন এভাবে ফেলে রাখা হয়েছে তা আমরা বুঝতে পারছি না। শিলিগুড়ির বিশিষ্ট পর্যটন ব্যবসায়ী তথা অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড টুরিজম (অ্যাক্ট)-এর আহ্বায়ক রাজ বসু বলেন, ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক সিকিম এবং কালিম্পংয়ে লাইফলাইন। আমাদের এই রাজ্যেও প্রচুর নতুন নতুন পর্যটনকেন্দ্র হয়েছে। সিকিমের পাশাপাশি কালিম্পংয়ে প্রচুর পর্যটক আসতে শুরু করেছেন। কিন্তু রাস্তার এই বেহাল অবস্থার জেরে পর্যটন ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পুজোর মরশুমে পর্যটকরা এসে যদি রাস্তায় এভাবে হেনস্তার শিকার হন তাহলে এই অঞ্চলের পর্যটন নিয়ে ভুল বার্তা য়াবে। এই জাতীয় সড়কটি সারাবছর চলাচলের যোগ্য রাখার জন্য কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।