এঁরা তো কেউ উত্তম-সুচিত্রা নন, রাজনীতি যোগে প্রশ্ন মাধবীর

117

সুমিত দে, কলকাতা : উত্তমকুমার তো নন কেউ এঁরা। এমনকি নন সুচিত্রা সেন। ফলে রাজনীতির আঙিনায় সম্প্রতি টলিউডের যশ দাশগুপ্ত, পাপিয়া অধিকারী থেকে টেলিতারকা সৌমিলী বিশ্বাস-সহ বেশ কিছু নতুন মুখ বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় বিন্দুমাত্র বিচলিত নন একদা তৃণমূল কংগ্রেস  প্রার্থী অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়। সে তো সুচিত্রা সেনের মেয়ে মুনমুনও ভোটে দাঁড়িয়েছিল, তাতে কাজের কাজ কিছু হয়েছিল? এখন যাঁদের ইচ্ছে হয়েছে, তাঁরা বিজেপিতে যাচ্ছেন। যান না, ঘুরে আসুন। তাতে অসুবিধে কোথায়! ফোনে স্পষ্ট বলেন, চারুলতা মাধবী। রুপোলি পর্দার অভিনেতা-অভিনেত্রীরা রাজনৈতিক দলে যোগদান নিয়ে যাঁর কোনও মাথাব্যথা নেই, বরং দুশ্চিন্তা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর হতাশা, আজ গণতন্ত্র কোথায়! রাজতন্ত্র নিয়ে খেলা হচ্ছে। মানুষ নয়, চারদিকে ধর্ম নিয়ে মাতামাতি হচ্ছে। এটা কাম্য নয়। একদা বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী মাধবীর বক্তব্য, সেই প্রফুল্ল সেনের আমল থেকে দেখে আসছি আমাদের শিল্পীদের কথা, টেকনিসিয়ানদের কথা কেউ কখনও ভাবেনি। তাঁদের জন্য কেউ কিছু করেনি। আমাদের সেটা ভুললে চলবে না, যা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর কাছেও কি কখনও এসেছিল বিজেপিতে যোগদানের প্রস্তাব? এমন প্রশ্নে খানিক হেঁয়ালির সুর মাধবীর গলায়, এত বছরে তা যে আসেনি, ভাবলেন কী করে! তবে এই ৭৯-তে আমি আর কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার অবস্থায় নেই। তাই দলাদলি নিয়ে কিছু আর ভাবি না।

কিছুদিন আগেই তৃণমূলে গিয়ে শোরগোল ফেলে দেন বর্ষীয়ান অভিনেতা দীপংকর দে। কিন্তু টলি টেলিউডের জনা কয়েক অভিনেতা-অভিনেত্রী একসঙ্গে বিজেপিতে যোগদান প্রসঙ্গে একটি কথাও বলতে চাননি তিনি। ফোনেই বেশ বিরক্ত বাঞ্ছারাম বাগান ছবির পাঁচকড়ি দীপংকর। আরে! যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁরা কী উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন, কী রাজনৈতিক মতাদর্শ, তা নিয়ে আমার কোনও মাথাব্যথা নেই। ধারণাও নেই। এই নিয়ে আমি কোনও কথা বলতে পারব না।

- Advertisement -

দীপংকর দে-র কথারই যেন খানিক অনুরণন ইন্দ্রাণী হালদারের কথায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের নাযিকা ইন্দ্রাণী বলেন, দেখুন যাঁর ইচ্ছে, পছন্দের দলে যাচ্ছেন। এ তো তাঁদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এর সঙ্গে তো আর ইন্ডাস্ট্রির কোনও লাভ-ক্ষতির সম্পর্ক নেই! আমরা আমাদের সময়ে একটা আদর্শ মেনে চলেছি। আজকের অভিনেতারা তাঁদের আদর্শ মেনে চলছেন। এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যাপার। এই নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। তেমন বিশেষ কিছু বলার নেই রায়দিঘির দুবারের তৃণমূল সাংসদ দেবশ্রী রায়েরও। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়িকার বক্তব্য, আমার স্ট্রাগল, আমার সেবামূলক কাজ তো আর আজকের নয়। বহু বছর আগে থেকে আমার এনজিও পথকুকুরদের নিয়ে কাজ করে চলেছে। তাদের সেবায় দিন-রাত আমি পথেঘাটে ছুটেছি। তার পরে মানুষের সেবায় পথে নেমেছি। রাজনীতির পথে পা রেখেছি। ফলে অনেক পথ পেরিয়ে আমার রাজনীতিতে পা রাখা। সেখানে কেউ যদি কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেন, এই নিয়ে আমি কী বলব!