শারীরিক নির্যাতনের শিকার, অপমানে আত্মঘাতী ছাত্রী! পলাতক ৩ অভিযুক্ত

158

বর্ধমান: কনেযাত্রীর বাসের মধ্যেই এক ছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠল বর্ধমানের মুহিন্দর গ্রামে। পরিবারের অভিযোগ, সেই ঘটনার পরেই অপমানে আত্মঘাতী হলেন তিনি। ঘটনার প্রেক্ষিতে তিন যুবক সুরোজ মুরমু, সাগুন মুর্মু ও বিকাশ সোরেনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করছেন মৃতার দাদু। এরপর থেকেই পলাতক ওই তিন অভিযুক্ত। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, ১৫ বয়সী আদাবাসী ওই ছাত্রীর মামাবাড়ি পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার মুহিন্দর গ্রামের ভাগার পাড়ায়। সেখানেই থেকে পড়াশোনা করতেন তিনি। স্থানীয় পর্বতপুর উচ্চ বালিকা বিদালয়ের ছাত্রী ছিলেন তিনি। পরিবার সূত্রে খবর, স্থানীয় এক তরুণীর বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত মঙ্গলবার কনেযাত্রী হিসেবে অন্যান্যদের সঙ্গে রওনা দিয়েছিলেন ওই কিশোরী। অনুষ্ঠান শেষে সবার সঙ্গেই বাসে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন ওই কিশোরী। বাসেই সে ঘুমিয়ে পড়ে। অভিযোগ, সেসময় সুরোজ মুর্মু জোড়পূর্বক তাঁর ওপর শারীরিক অত্যাচার করে। ছাত্রী ও বাসে থাকা অন্য কনে যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে তখনকার মতো সুরোজ বিরত হয়। পরে রাতে বাড়ি ফিরে আসার পর ফের সুরজ ও তার দুই বন্ধু সুগুন মুর্মু ও বিকাশ সরেন মিলে সারারাত তাঁকে উত্যক্ত করে। এরপরেই বুধবার ওই কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এরপরেই অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয় ওই কিশোরীর পরিবারের তরফে।

- Advertisement -

ছাত্রীর দাদু বলেন, ‘যুবকদের এমন নোংরা আচরণ মেনে নিতে না পেরে অপমানিত হয়ে বুধবার সারাদিন মনমরা হয়েছিল নাতনি। ওই সন্ধ্যায় ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়।’