টাইফুনের জেরে বিপর্যস্ত ভিয়েতনাম

414

হ্যানয়: শক্তিশালী টাইফুন মোলাভের তাণ্ডবে বৃহস্পতিবার ভিয়েতনামে ভয়াবহ ধস নামে। এখনও পর্যন্ত মৃত প্রায় ৩৫জন। নিখোঁজ ৫৯ জন। ভূমিধসই নয়, টাইফুনের তাণ্ডবে নৌকাডুবিও হয়েছে। শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের পর ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ বিদ্যুত্‍হীন হয়ে পড়ছে বলে সে দেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে।

মধ্য ভিয়েতনামের তিন গ্রামে ইতিমধ্যে উদ্ধারকারীর দল কাজ শুরু করে দিয়েছে। ওই তিন গ্রামে ভূমিধসের কারণে কমপক্ষে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, ধসের নীচে এখনও ৪০জনেরও বেশি মানুষ আটকে রয়েছে। জমাট কাদার নীচে কেউ বেঁচে থাকতে পারে না, এই সন্দেহে মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

- Advertisement -

ঘন্টায় ১৫০ কিমি বেগে টাইফুন মোলাভ আছড়ে পড়ে ভিয়েতনামের উপর। বুধবার টাইফুন ভিয়েতনামে আছড়ে পড়ার আগে সতর্কতা জারি করার পরও সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিল মত্‍স্যজীবীরা। টাইফুনের তাণ্ডবে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। যার জেরে এখনও পর্যন্ত ১২জন মত্‍স্যজীবীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ ১৪ জন মত্‍স্যজীবী। ট্র ভান থেকে ৪৫ কিমি দূরে, ট্র লেং গ্রামেও অপর একটি ভূমিধস নামে। সেখানে কয়েক ঘন্টার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বাড়ি ভেঙে ৪৫জনের মৃত্যু হয়েছে। ভাগ্যের জেরে চারজন বেঁচে গিয়েছেন।

উপ প্রধানমন্ত্রী ত্রিন দহ ডাং একটি ভূমিধসের জায়গায় পর্যবেক্ষণে গিয়েছিলেন। সেখানে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে উদ্ধার কাজ চলছে। ওই জায়গায় উদ্ধারের কাজে সেনা নামানো হয়েছে। বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করার চেষ্টা চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। ধ্বংসাবশেষ সরানোর জন্য আরও সেনা ও বড় মেশিন লাগবে। উদ্ধারকাজের জন্য আরও সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকায় সকলের কাছে পৌঁছে যাওয়ার জন্য হেলিকপ্টারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

সূত্রের খবর, ওই গ্রামে ধবংসাবশেষ থেকে দেহ উদ্ধার করার সময় পর পর আটজনের দেহ তুলে আনা হয়। ওই আটজনের মধ্যে চারজন তখনও বেঁচে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজন শিশু। ভেঙে যাওয়া বাড়ির মধ্যে কোনওভাবে আটকে গিয়েছিল তাঁরা। তাঁদের সকলকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কারও হাত, কারও পা ভেঙেছে, কেউ কেউ গভীর চোট পেয়েছেন। সতর্কতা জারি করে বুধবার থেকেই অফিস, কারখানা, স্কুল-সব বন্ধ রাখার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। উপকূলবর্তী এলাকা থেকে মোট ৪০হাজার মানুষকে সরিয়ে আনা হয়েছিল। টাইফুনের তাণ্ডবে ৫৬হাজারের বেশি বাড়ির ছাদ উড়ে গিয়েছে। কুয়াং নাগাই প্রদেশ বিদ্যুত্‍ পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।