জলপাইগুড়িঃ জেলার বয়স ১৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের গ্রামাঞ্চলে আজও কোনো কলেজ গড়ে ওঠেনি। প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় আগে জলপাইগুড়ি শহরের অদূরে গড়ে ওঠা রানিনগর শিল্পবিকাশ কেন্দ্রে আজও শিল্পের বিকাশ হল না। শিল্পের নামে জমি নিয়ে স্রেফ ফেলে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে শহরের ৩ এবং ৪ নম্বর গুমটিতে উড়ালপুল নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও আজও এ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ হয়নি। ভোটের পর ভোট পেরিয়ে গেলেও কোনোবারই এই সমস্যাগুলি মেটে না। এবারের লোকসভা ভোটের আগে তাই বাসিন্দারা এই সমস্যাগুলি নিয়ে বেশি করে সরব হয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলিও এ নিয়ে সরব হয়েছে। রানিনগর শিল্পবিকাশ কেন্দ্র ও উড়ালপুলের সমস্যায় বাসিন্দারা সমস্যায় পড়লেও সদরের গ্রামাঞ্চলে কলেজ না থাকার বিষয়টি এবারের ভোটের মুখে বড়ো ইশ্যু হয়ে উঠেছে।

সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, জলপাইগুড়ি বিধানসভা ক্ষেত্রের গ্রামীণ বলয়ে ২ লক্ষ ৬১ হাজার ৭৮৪ জন বাসিন্দা বসবাস করেন। পুর এলাকায় প্রায় দুই লক্ষ মানুষের বসবাস রয়েছে। বাসিন্দাদের একটি বড়ো অংশই তপশিলি জাতি এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও উন্নয়নের ক্ষেত্রে জলপাইগুড়ি কেন পিছিয়ে সেই প্রশ্নই বারে বারে উঠে আসছে। প্রতি বছর উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশিত হওয়ার পর জলপাইগুড়ি বিধানসভা ক্ষেত্রের গ্রামাঞ্চলের ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষায় সমস্যায় পড়েন। জলপাইগুড়ি শহরের কলেজগুলিতে আসন কম থাকায় তাঁদের ভোগান্তি চরমে ওঠে। বিশাল রায় নামে এক পডুয়ার কথায়, দীর্ঘদিন ধরেই ঘুঘুডাঙ্গাতে কলেজ স্থাপনের দাবি রয়েছে। কিন্তু আজও তা পূরণ হয়নি। অবসরপ্রাপ্ত উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষক তথা ভিতর পান্ডাপাড়ার বাসিন্দা জিতেন্দ্রনারায়ণ চক্রবর্তী বলেন, শিক্ষার প্রতি শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের ছেলেমেয়েছেরও আগ্রহ বাড়ছে। বেশি করে কলেজ বানিয়ে এই সমস্যা মেটানো যাবে।

বিজেপির জলপাইগুড়ির সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী বলেন, বাম আমলের ৩৪ বছরের পাশাপাশি মা-মাটি-মানুষ সরকারের আমলেও য়ে কোনো উন্নয়নই হয়নি তা সদরের গ্রামাঞ্চলে কোনো কলেজ না স্থাপিত হওযাতেই পরিষ্কার। জলপাইগুড়ি জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নির্মল ঘোষদস্তিদার এবং বামফ্রন্ট নেতা প্রকাশ রায়ও একই সুরে শাসকদলকে বিঁধেছেন। তণমূল কংগ্রেস অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে বিরোধীদের তোলা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। দলের জলপাইগুড়ির সাধারণ সম্পাদক সন্দীপ মাহাতোর কথায়, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তিই নেই। আনন্দচন্দ্র কলেজ অফ কমার্সে ইতিমধ্যেই কলা বিভাগে পড়াশোনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনি বিধিনিষেধ থাকায় এখন তো আর নতুন কলেজের ঘোষণা করা যাবে না। তবে বাসিন্দারা এটা বিলক্ষণ জানেন যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জলপাইগুড়ির সমস্ত সমস্যার দিকেই নজর রাখছেন। কেন্দ্রের অসহযোগিতার জন্য উড়ালপুল সমস্যা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না বলে সন্দীপবাবু অভিযোগ করেন।