বেহাল রাস্তাই শাপে বর, করোনা থেকে মুক্ত গ্রাম

রেজাউল হক, পুরাতন মালদা : বেহাল রাস্তাও যে শাপে বর হতে পারে, তা জানা ছিল না গ্রামবাসীদের। কাদামাখা বেহাল রাস্তা এখন পূর্ণাঙ্গ লকডাউনের কাজ করছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষজন বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। বর্ষার মরশুমে বহিরাগতরাও বেহাল রাস্তার জন্য গ্রামে ঢোকেন না। রাস্তার এমন দশায় একদিকে যেমন রুজির ক্ষতির মুখে পড়ছেন গ্রামবাসীরা, অন্যদিকে করোনা আবহে প্রাণের ভয় থেকে নিজেদের অনেকটাই দূরে সরিয়ে রাখতে পেরেছেন তাঁরা। এই বেহাল রাস্তা রয়েছে পুরাতন মালদা ব্লকের মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েতের বলরামপুর এলাকায়। প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার দুর্ভোগ এতটাই বাড়িয়েছে যে বর্ষার মরশুমে জল-কাদা পেরিয়ে মানুষ রাস্তা দিয়ে চলাফেরাই করতে চান না। ফলে করোনা সংক্রমণের ভয় ওই গ্রামে নেই বললেই চলে। এমনই দাবি অধিকাংশ গ্রামবাসীর।

বলরামপুর খুনিবাথান গ্রামের বাসিন্দা দীনেশ মণ্ডল, সরস্বতী মণ্ডল, আজমত শেখ, রহিমা বিবিদের বক্তব্য, করোনা আবহে রুজি-রোজগারে টান পড়েছে। তার ওপর এলাকার বেহাল রাস্তায় যাতায়াত করা খুবই মুশকিল। বর্ষা মরশুমে ৫-৭ কিলোমিটার এই রাস্তার অবস্থা, তাতে চলাচল করা যায় না। হাঁটুজল ও কাদায় ভরা রাস্তায় খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ চলাচল করে না। বাইরের মানুষও এই সময় গ্রামে আসেন না। তাই আমরা মনে করি গ্রামে করোনা সংক্রমণের ভয় নেই। যাঁরা ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়েছিলেন, তাঁরা হোম কোয়ারান্টিনের মেয়াদ শেষ করে এখন বাড়িতেই রয়েছেন। তাই রাস্তার জন্য দুর্ভোগ আছে ঠিকই, কিন্তু করোনা নেই গ্রামে।

- Advertisement -

মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েতের বলরামপুর সহ আরও কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ ও ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ। দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকার ৩-৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা বেহাল। বর্ষা মরশুমের তিন মাস এই রাস্তা সবসময় জলকাদায় ভরে থাকে। গ্রাম পঞ্চায়েতও রাস্তাটি পাকা করার পরিকল্পনা নিয়েছে। যদিও গ্রামবাসীদের একাংশ বলছেন, এতদিন যখন হয়নি, তখন আর কটা মাস থেমে যাওয়া যাক। করোনা আগে দূর হোক, তারপর রাস্তার কাজ শুরু হোক। কারণ, বেহাল রাস্তার জন্যই এই ছোঁয়াচে রোগ এখনও গ্রামে ঢুকতে পারেনি।

মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েতের স্থানীয় সদস্য রেজিনা খাতুন জানান, ওই এলাকার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল। বর্ষার সময় চলাচলে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পাকা রাস্তা তৈরির জন্য আমরা জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি ও ব্লক প্রশাসন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পুরাতন মালদা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মৃণালিনী মণ্ডল মাইতি বলেন, বলরামপুর খুনিবাথান এলাকার বেহাল রাস্তার কথা শুনেছি। রাজ্য সরকার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা সংস্কারের জন্য আর্থিক সহযোগিতা করছে। বর্ষা পেরিয়ে যাওয়ার পর ওই এলাকার রাস্তা পাকা করার পদক্ষেপ করা হবে।