গুগলের সাহায্যে কম্পিউটার  প্রোগ্রামিং শিখছে গ্রামের মেয়েরা

197

গৌতম দাস, গাজোল : গাজোলের বিডিও নবীনকুমার চন্দ্রার উদ্যোগে গুগলের সাহায্যে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের কাজ শিখছে এক ঝাঁক মেয়ে। ভারতের মধ্যে এই প্রথম গাজোলেই রূপায়িত হতে চলেছে মালদা গার্লস গো কোডিং বা ম্যাজিক প্রকল্প।

আর এই কাজের পুরোভাগে রয়েছেন নবীনকুমার চন্দ্রা। তাঁর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে গুগলও। নবীনবাবু বুঝেছিলেন এই এলাকায় বেশ কিছু মেয়ে রয়েছে, যাদের মেধা থাকা সত্ত্বেও উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তাই তাদের জন্য কাজ করার উদ্যোগ নেন তিনি। জেলাশাসককে জানান তাঁর পরিকল্পনার কথা। তাঁর পরিকল্পনার কথা শুনে উৎসাহ প্রকাশ করেন জেলাশাসকও। এরপরই জোরকদমে কাজ শুরু করেন নবীনবাবু। প্রথম পর্বে গাজোলের শ্যামসুখী বালিকা শিক্ষা নিকেতনের ২০ জন ছাত্রীকে নিয়ে শুরু হয়েছে তাঁর পথচলা।

- Advertisement -

হঠাৎ করে কেন তিনি এমন উদ্যোগ নিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে নবীনবাবু জানান, বিডিও হিসাবে কাজে যোগ দেওয়ার আগে জেলার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তথ্য জোগাড় ও পড়াশোনা করি। সেসময়ই জানতে পারি মালদা জেলার একটা বড় সমস্যা বাল্যবিবাহ। বাল্যবিবাহ রুখতে এবং মেয়েদের উচ্চশিক্ষিত করে তাদের স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার একাধিক প্রকল্প নিয়েছে। তবু অনেক সময় দেখা যাচ্ছে যে, মেধা থাকা সত্ত্বেও গ্রাম বাংলার মেযো উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সেরকম সুয়োগ পাচ্ছে না। তাই মেধাবী অথচ প্রথাগত শিক্ষা ছাড়াও অন্য শিক্ষায় আগ্রহী মেয়েদের নিয়ে এই প্রকল্প তৈরি করার পরিকল্পনা নিই। নাম রাখা হয়েছে ম্যাজিক। www.magicatmalda.in এই নামে খোলা হয়েছে একটি ওয়েসাইটও।

গত অক্টোবর মাস থেকে শ্যামসুখী বালিকা শিক্ষা নিকেতনের সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ২০ জন ছাত্রীকে নিয়ে শুরু হয় পথচলা। দিল্লির গুরুগ্রামের দুজন শিক্ষকের সাহায্যে এই সমস্ত মেয়েরা শিখতে শুরু করে বিভিন্ন কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এবং সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের কাজ। কম্পিউটারের মাধ্যমেই দূরশিক্ষা পদ্ধতিতে চলে পাঠদান ও বাকি সব কাজকর্ম। আর এখানে মেয়েদের সাহায্য করার জন্য আছেন স্কুলের শিক্ষিকা শিরিন খান, এডুকেটেড কোডার হিসাবে আছেন মেঘনাদেবী। গাইড হিসাবে কাজ করছেন সুশংকর কর্মকার। ইতিমধ্যে ছাত্রীরা নিজেরাই তৈরি করে ফেলেছে বেশকিছু অ্যানিমেশন এবং ভিডিও গেম।

নবীনবাবু আরও জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে এই প্রকল্প নিয়ে যোগাযোগ করি গুগলের সঙ্গে। আলোচনার পর সাড়া পাই গুগলের কাছ থেকে। গুগল কর্তারা জানিয়েছেন, ভারতেই প্রথমবার পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প চালানো হবে। এরপর সারা বিশ্বেই তা চালু হবে। তবে শুধু গুগলই নয়, বিশ্বের অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিও এই প্রকল্পের দিকে নজর রেখেছে। জেলাশাসকও আমাদের উৎসাহ জোগাচ্ছেন। পরবর্তীকালে জেলাজুড়ে বিভিন্ন স্কুলের মেয়েদের নিয়ে আরও বড় আকারে এই প্রকল্প চালানো হবে।

সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে এই ধরনের শিক্ষা লাভ করতে পেয়ে খুশি সুপ্রিয়া রায়, মেঘা, ভূমিকা সরকার, অভয়া সিংহরা। তারা বলে, বিডিও স্যার যে উদ্যোগ নিয়ে আমাদের এই শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন তাতে আমরা অভিভূত। স্কুলের তরফে সুশংকর স্যার, শিরিন ম্যাডাম এবং মেঘনা ম্যাডাম যেমন আমাদের শেখাচ্ছেন তেমনই মাঝেমধ্যে বিডিও স্যার এসেও আমাদের ক্লাস নিচ্ছেন। এছাড়াও দিল্লি থেকে দুজন স্যার আমাদের ক্লাস করাচ্ছেন। এই কয়েক মাসেই অ্যানিমেশন, ভিডিও গেম-অনেক কিছুও শিখেছি। আপাতত লকডাউনের জেরে ক্লাস বন্ধ। কিন্তু আমরা মুখিয়ে আছি, আবার কবে থেকে ক্লাস শুরু হবে সেই আশায়।