মহম্মদ হাসিম  নকশালবাড়ি : নকশালবাড়ি ব্লকের মণিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের কিলারাম সংসদ এলাকায় ২০১৩ সালে তৈরি করা হাট এখনও চালু হয়নি। এভাবে পড়ে থেকে হাটের শেডগুলি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই হাট চালু করার ব্যাপারে প্রশাসনের তরফে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত এই হাট চালু করার দাবি তুলেছেন তাঁরা।

প্রায় তিন বিঘা সরকারি জমির উপর বিএডিপি ফান্ড থেকে ১২ লক্ষ টাকা খরচ করে ২০১৩ সালে নকশালবাড়ি পঞ্চাযে সমিতির তরফে হাটের শেডগুলি তৈরি করা হয়েছিল। হাটটি সীমানাপ্রাচীর দিযে ঘেরা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ ছয় বছর ধরে হাটের শেডগুলি অবহেলায় পড়ে রয়েছে। এর ফলে শেডগুলির পিলার ও ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। মেঝেও ভেঙে গিয়েছে। হাটের পিছনে থাকা নিকাশিনালা আবর্জনায় ভরে গিয়েছএ। এর ফলে এলাকায় মশার উপদ্রব বাড়ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ।

ভারত-নেপাল সীমান্তে থাকা এই এলাকার একদিকে আছে নকশালবাড়ি বাজার এবং অন্যদিকে আছে নেপালের বামনডাঙ্গি হাট। স্থানীয় বাসিন্দা হেমবালা সিংহ বলেন, আমাদের গ্রামে হাট চালু হলে অনেক সুবিধা হবে। দৈনন্দিন প্রযোজনের জিনিসপত্র কেনার জন্য এখন বাসিন্দাদের প্রতিদিন নকশালবাড়ি বাজারে দৌড়াতে হয়। এক্ষেত্রে যাতায়াতের খরচও অনেকটাই বেড়ে যায়। অপর বাসিন্দা অজুলি বর্মন বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন নেপালের বাসিন্দারা নকশালবাড়ি বাজারে কেনাকাটার জন্য যাতায়াত করেন। তাই এখানে দ্রুত বাজার চালু করা হলে অনেক মানুষের লাভ হবে। ছয় বছর ধরে ঘরগুলি এমনি পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। এই বিষয়ে নকশালবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির স্থানীয় সদস্য অমর সিনহা বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্য ২০১৩ সালে ভারত-নেপাল সীমান্তে এই হাট শেডগুলি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর বোর্ড পরিবর্তন হযে যাওয়ায় নতুন বোর্ড তখন এই হাট চালু করার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তবে আমরা ফান্ড জোগাড় করে দ্রুত এই হাটটি চালু করব। মণিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গৌতম ঘোষ বলেন, মণিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের হাট চালু করার বিষযে আমি বিডিওকে জানাব। এটি চালু হলে প্রায় দশ হাজার স্থানীয় বাসিন্দার উপকার হবে। এই হাটটি চালু করা হলে স্থানীয় কৃষকরা তাঁদের উত্পাদিত ফসল এই হাটে বিক্রি করতে পারবেন। নকশালবাড়ির বিডিও বাপি ধর বলেন, মণিরাম গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় হাটের শেড চালু করার বিষযে আমাকে কেউ জানাননি। তবে আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।