দেড় মাস ধরে জলবন্দি গ্রাম, নিশ্চুপ পঞ্চায়েত

265
প্রতীকী ছবি

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : নিকাশি ব্যবস্থা নেই। তাই দেড় মাসের বেশি সময় ধরে জলমগ্ন বাসিন্দারা। কিন্তু গ্রাম পঞ্চায়েত নিশ্চুপ। এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় জলযন্ত্রণা থেকে কবে মুক্তি মিলবে, তা জানেন না রায়গঞ্জ শহর লাগোয়া কমলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের চাঁদড় এলাকার বাসিন্দারা। প্রায় এক কিমি রাস্তায় হাঁটুসমান জল। বাড়িঘর গড়ে উঠলেও এখনও গড়ে উঠেনি নিকাশি ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই এখানে জল জমে। মূল রাস্তা থেকে গলিপথ জলে থইথই করছে। রাস্তা ও নর্দমার জল মিলেমিশে একাকার। অনেকের বাড়ির মধ্যেও জল জমে গিয়েছে। এর ফলে বাড়ছে মশার উপদ্রব, পোকামাকড়ের উপদ্রব। বাড়ছে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার আতঙ্ক। এলাকায় বসবাসকারী পরিবারের পুরুষ সদস্যরা খুব বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হন না। চারিদিক জলমগ্ন হওয়ায় ছোট ছেলেমেয়েদের বাড়ির মধ্যে আবদ্ধ থাকতে হচ্ছে। টোটো বা অটোচালকেরা জলের জন্য এলাকায় না ঢোকায় রোগীদের নিয়ে সমস্যায় পড়েন পরিবারের সদস্যরা। জলমগ্ন প্রায় এক কিমি রাস্তা দিয়ে জামাকাপড় হাঁটুর ওপর তুলে যাতায়াত করতে হচ্ছে। জলের তোড়ে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে বাইক বা সাইকেল করে যাতায়াত করছেন অনেকে। মাঝেমধ্যে ঘটছে দুর্ঘটনা।

বছর পাঁচেক হল এই এলাকায় ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে ঘনবসতি। শহর লাগোয়া হওয়ায় সরকারি কর্মচারী থেকে স্কুল শিক্ষক এবং বহু ব্যবসায়ী বাড়ি তৈরি করে এই এলাকায় বসবাস করছেন। বসতি গড়ে উঠলেও এখনও এই গ্রামে জলনিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্থানীয় পঞ্চায়েতের তরফে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এলাকার বাসিন্দা অজয় রায় জানান, প্রায় দেড় মাস ধরে জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছি আমরা। পার্শ্ববর্তী এলাকার জল আগে নদীতে  গিয়ে পড়ত। কিন্তু সেই জল নদীতে না পড়ে আমাদের এলাকায় জমছে। এখানকার জল বেরিয়ে যাওয়ার জন্য নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে আমাদের। এলাকা জলমগ্ন থাকায় প্রয়োজন হলেও বের হতে পারি না। অসিত সরকার, গৌতম বর্মন, রাজকুমার রায় সহ অনেকেই জমা জলের জন্য পরিবার নিয়ে বিপদে পড়েছেন। তাই প্রত্যেকেই দাবি জানিয়েছেন, মাস্টারপ্ল্যান করে এলাকার জল বের করতে হবে। তা না হলে জলযন্ত্রণা দূর হবে না। বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, একাকায় নিকাশিনালা তৈরির কোনও উদ্যোগ নেই। সেই সঙ্গে প্রতিটি বাড়ির  বর্জ্য পদার্থগুলি নিয়ে পঞ্চায়েত থেকে নিয়ে যায় না। অথচ এই অঞ্চলে কঠিন বর্জ্য পদার্থের ওপর প্রকল্প রয়েছে।

- Advertisement -

এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য রাজা দাস জানান, মাঠের চারিদিক বাড়িঘর ভরে যাওয়ায় জল বের হওয়ার বিকল্প কোনও রাস্তা নেই। সেজন্য এই দুর্ভোগ। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে জানিয়েছি। তাঁরাও দেখে গিয়েছেন। এই মুহূর্তে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে আগামীদিনে রায়গঞ্জ পুরসভার সঙ্গে কথা বলে নিকাশি নালা তৈরি করার চিন্তাভাবনা রয়েছে।