রামকৃষ্ণ বর্মন, জামালদহ : সেচ দপ্তর, পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও লাভ হয়নি। নদীভাঙন ঠেকাতে নেতা-কর্তা-আমলা কেউই এগিয়ে আসেননি। অভিযোগ, বছর বছর আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে তাঁদের উপর আর ভরসা না করে এবারও দেবতাতেই আস্থা রাখছেন নদীতীরের বাসিন্দারা। ভাঙন রোধের জন্য নদীর পাড়েই অস্থায়ী মণ্ডপ বানিয়ে দেবতার আরাধনা করতে চান তাঁরা। বাঁশ, পলিথিন শিট ও দড়ি দিয়ে অস্থায়ী মণ্ডপ বানিয়ে গত বছরও দেবতার আরাধনায় মেতে উঠেছিলেন বাসিন্দারা। তাঁদের বিশ্বাস, নদীর ভাঙন ঠেকাতে রাজনৈতিক দলের নেতা, পঞ্চায়েতের প্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্তাদের বোধোদয় করবেন দেবতা। আর যদি তাঁদের বোধোদয় না হয়, তাহলে গ্রামবাসীদের সমবেত প্রার্থনা, ঠাকুর যেন বিপদ থেকে গ্রামকে রক্ষা করেন। কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের সারোহাটি এলাকায় জলঢাকা নদীর ভাঙন ঠেকাতে পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে প্রতি বছর এভাবেই পুজোয় মেতে ওঠেন।

জানা গিয়েছে, শুধু বর্ষাকালে নয়, বছরভর নদীভাঙন মেখিলগঞ্জে লেগেই রয়েছে। বরং, বর্ষার পরে নদীর জলস্তর নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন বাড়তে থাকে। ফলে গাছপালা, ফসল সহ বিঘার পর বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতি বছরই ব্যাপক আতঙ্কে ভোগেন কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের সারোহাটি, ধুলিয়া খালিসা, উছলপুকুরি, রানিরহাট, জামালদহ, চিতিয়ারডাঙ্গা, তিস্তাপয়স্তি সহ নদীতীরবর্তী নানা গ্রামের বাসিন্দারা। তারা নদীভাঙন ঠেকাতে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে আর্জিও জানিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে সমস্যার স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, বর্ষা পেরিয়ে যাওয়ায় নদীর জলস্তর এখন কমছে। জলস্তর কমার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ভাঙনের তীব্রতা। ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে বেশ কিছু বসতবাড়ি যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। কোথাও কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, সরকারি ভবন নদীভাঙনে বিপন্ন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনকে জানিয়েও ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা গৃহীত না হওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে মেখলিগঞ্জের বিডিও সাঙ্গে ইউডেন ভুটিয়া বলেন, নদীভাঙন সমস্যা মেখলিগঞ্জ ব্লকের কোথায় কোথায় আছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। উছলপুকুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কালীমন বর্মন ও রানিরহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ফুলেশ্বর রায়ের অবশ্য বক্তব্য, নদীতীরের বাসিন্দাদের রোজই আতঙ্কে দিন কাটছে। বারবার প্রশাসনিক স্তরে জানানো হলেও ভাঙন প্রতিরোধে কেউই উদ্যোগী হচ্ছেন না। তাই বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।