মাসে ২০ দিন কাজ, মজুরি ১৭৫ টাকা, প্রবল সমস্যায় গ্রামীণ সম্পদকর্মীরা

690

প্রকাশ মিশ্র, মালদা : ২০১৫ সালে সামাজিক নিরীক্ষা প্রকল্পে ইন্টারভিউয়ের  মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে নিয়োগ করা হয়ে ছিল প্রায় ১৫০০ ভিলেজ রিসোর্স পার্সন। এককথায়, গ্রামীণ সম্পদকর্মী। তাঁদের বেশিরভাগই উচ্চশিক্ষিত। এই সমস্ত যুবক-যুবতীর চোখে ছিল রোজগার করে সংসার চালানোর স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন কার্যত ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। মাসে তাঁরা কাজ পান মাত্র ২০ দিন। তারও কোনও নিশ্চয়তা নেই। আর তাঁদের মজুরি শুনলে অবাক হতে হবে। তা একজন দিনমজুরের থেকেও কম। দিনমজুরদের মজুরি যেখানে দিনে ৩০০-৪০০ টাকা, ১০০ দিন কাজ প্রকল্পে ২২৫ টাকা, সেখানে ভিআরপিদের দৈনিক মজুরি হচ্ছে ১৭৫ টাকা। তাও মাঝেমধ্যে মেলে না। কয়েক মাস পরপর মেলে। অথচ তাঁদের কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রায় ১৮টি দপ্তরের কাজ সামাল দিতে হয়। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। তবুও তাঁদের কাজের কোনও মূল্যায়ন নেই বলে অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের স্থায়ীকরণের আশ্বাস দিয়ে ছিলেন। দিয়েছিলেন মাসিক বেতনের আশ্বাসও। কিন্তু রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের কোনও প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়িত হয়নি। পাঁচ বছর আগে এই কর্মীরা যে তিমিরে ছিলেন, এখনও সেই তিমিরেই রয়েছেন। ডেঙ্গি, করোনা, ম্যালেরিয়া প্রভৃতি কাজ থেকে তাঁরা পিছপা হননি।

তাঁদের সমস্যা প্রসঙ্গে চাঁচলের মণিরুল ইসলাম, ইংরেজবাজারের বিমল রায়রা বলেন, ২০১৫ সালে সোশ্যাল অডিট অর্থাৎ সামাজিক নিরীক্ষা বিভাগে প্রত্যেক ব্লকে বেকার যুবক-যুবতীদের নিয়োগ করা হয়ে ছিল। শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগ হয়ে ছিল। ইন্টারভিউ হয় জেলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে।  জেলা পর্যায়ে আধিকারিকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আমাদের মধ্যে ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ ছেলেমেয়ে খুব কম। উচ্চশিক্ষিতরাই বেশি। আমরা যোগ্যতার মাধ্যমে এই কাজ পেয়েছিলাম। আমাদের অনেক আশা ছিল, এই কাজ করে সংসার প্রতিপালন করতে পারব। কিন্তু পরে জানতে পারি, মাসে মাত্র ২০ দিন কাজ পাওয়া যাবে। সেই হিসাবে বছরে মাত্র ২৪০ দিন। মজুরি শুনলে অবাক হতে হবে। যেখানে একজন দিনমজুরের পারিশ্রমিক দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, সেখানে প্রতিদিন আমাদের দেওয়া হত ১৫০ টাকা। পরে ১৭৫ টাকা করা হয়েছে। এই  টাকায় আমাদের প্রচুর কাজ করতে হয়। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমাজ সচেতনতামূলক এবং সমাজকল্যাণমূলক কাজের প্রচার ও প্রসার ঘটানো আমাদের দেখতে হয়। বিশেষত পতঙ্গবাহিত ম্যালেরিয়া কিংবা ডেঙ্গি রোগ নিয়ে আমাদেরই সচেতনতা প্রচার করতে হয়। ইন্দিরা আবাস, খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্প, এমজিএনআরইজিএ সহ সমস্ত সরকারি পরিষেবার প্রচারে আমাদের যুক্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ কোয়ারান্টিন সেন্টার দেখভালও করতে হয়েছে আমাদের। এছাড়াও রয়েছে করোনা আক্রান্তদের সচেতন করা, পজিটিভদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের সন্ধান করা ইত্যাদি। অথচ আমাদের কোনও জীবনবিমার ব্যবস্থা নেই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। লোকসভা ভোটের আগে মাসিক বেতনের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়ে ছিল। তিনি আশ্বাসও দিয়ে ছিলেন। কিন্তু বছর ঘুরতে চললেও তাঁর সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত হয়নি। এই অবস্থায় আমরা ফের মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যাতে এই জেলার ১৫০০ পরিবার অন্তত খেয়েপড়ে বেঁচে থাকতে পারে।

- Advertisement -

এব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা শাসক তথা মালদা জেলা পরিষদের অতিরিক্ত নির্বাহী আধিকারিক বিকাশ সাহা বলেন, গ্রামীণ সম্পদ কর্মীদের বিষয়টি নিয়ে আমরা ওয়াকিবহাল রয়েছি। তাঁরা আমাদের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের সমস্যা মূলত দুটি। প্রথমত তাঁদের মাসিক বেতনের দাবি রয়েছে। যেটি স্টেট পলিসির ব্যাপার। সেই ব্যাপারে আমার বলার কিছু নেই।  দ্বিতীয়ত তাঁরা যে ভাতা পান সেটি যেন নিয়মিত দেওয়া হয়। এই ব্যাপারটি নিয়ে আমরা ভাবনাচিন্তা করছি। এদের অ্যালটমেন্ট ৩-৪ মাসে একবার আসে। এদের ভাতা যাতে নিয়মিতভাবে দেওয়া যায় সেই চেষ্টা আমরা করব।