শুভদীপ শর্মা, ময়নাগুড়ি : নেওড়া নদীর ভাঙনের জন্য ময়নাগুড়ি ব্লকের দোমোহনি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বৌলবাড়ি কুমারপাড়া ও ললিতেরপাড়ার বাসিন্দারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। নদীভাঙনের জেরে ইতিমধ্যেই গ্রামের রাস্তা তলিয়ে গিয়েছে। এরপর স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে চা বাগানের জায়গা কেটে রাস্তা  তৈরি করলেও সেটিও বর্তমানে ভাঙনের মুখে। তবে নদীভাঙন রুখতে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এর জেরে নদীভাঙন নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন নেওড়া পাড়ের কয়েকশো বাসিন্দা।

বিগত কয়েক বছর ধরে ভাঙন শুরু হয়েছে কুমারপাড়া সংলগ্ন নেওড়া নদীতে। ভাঙনে বিগত কয়েকবছরে এলাকার কয়েক বিঘা জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। তবে ভাঙনে চাষের জমি গিয়ে যত না সমস্যা হয়েছে তার চেয়ে বেশি সমস্যা হয়েছে গ্রামে ঢোকার একমাত্র রাস্তাটি তলিয়ে যাওয়ায়। বর্ষা পার হয়ে গেলেও এখনও প্রায় রোজই অল্প অল্প করে ভাঙন অব্যাহত ওই এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ রায় এবং গোকুল বিশ্বাস জানান, গ্রামে ঢোকার একমাত্র রাস্তাটি নদীভাঙনে তলিয়ে যাওয়ায় বেশ কিছুদিন যাতায়াত বন্ধ ছিল। এর পর স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন সরকার নিজের চা বাগান তুলে রাস্তা বানাবার জমি দিলে রাস্তা পান গ্রামবাসীরা। তবে বর্তমানে ওই রাস্তাটিও ভাঙনের কবলে। বর্তমানে যে পরিস্থিতি, তাতে শুধু রাস্তাই নয় গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়িও তলিয়ে যাওয়ার মুখে। ভাঙনের কবলে পড়েছে এলাকার একটি শিশুশিক্ষাকেন্দ্র এবং একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও। বারবার ভাঙনের বিষয়ে প্রশাসনকে জানিয়ে কোনো লাভ হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।

- Advertisement -

ললিতেরপাড়ার স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য আনারুল হক বলেন, বর্তমানে যা পরিস্থিতি তাতে ভাঙন মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা করা না হলে আগামী বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। দোমোহনি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কল্যাণী রায় বলেন, এলাকায় বড়ো নদীভাঙন রয়েছে। ভাঙন মোকাবিলায় গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। ব্লকস্তরে বিষয়টি জানানো হয়েছে।