অমিতকুমার রায়, মানিকগঞ্জ : অতি বর্ষণের জেরে ভেঙে গিয়েছিল নতুন বন্দর থেকে হলদিবাড়ি-জলপাইগুড়ি রাজ্য সড়ক পর্যন্ত গ্রামীণ রাস্তার একাংশ। যার ফলে চলাচলে খুবই সমস্যায় পড়েছেন এলাকাবাসী। গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের একাধিকবার সমস্যার কথা জানিয়ে কোনো লাভ না হওয়ায় শেষমেশ নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো তৈরির কাজে হাত দিলেন সারা ভারত অগ্রগামী কিষানসভার খারিজা-২ শাখা কমিটির সদস্যরা। এই ঘটনায ক্ষুব্ধ স্থানীয় মানুষ ওই স্থানে স্থায়ী কালভার্ট চান। সেই দাবিও পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দেন তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দা টলেন রায়, নিরাপদ রায় বলেন, প্রায় মাসখানেক আগে প্রবল বৃষ্টিতে টেপরি নদী উপচে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। তার জেরে খারিজা বেরুবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার নতুন বন্দর থেকে হলদিবাড়ি-জলপাইগুড়ি রাজ্য সড়ক পর্যন্ত গ্রামীণ রাস্তার উপর দিয়ে জল প্রবাহিত হতে থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে জল প্রবাহিত হওয়ার ফলে একটু একটু করে ভাঙতে শুরু করে রাস্তার ওই অংশটি। একসময় তা পুরোপুরি ভেঙে যায়। ফলে চলাচলের সমস্যায় পড়তে হয় এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে। হরিমন্দির, শালবাড়ি, নতুন বন্দর, ভবানীনগর, মালকানি সহ সংলগ্ন এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা হলদিবাড়ি বাজার সহ জলপাইগুড়ি শহর যাওয়ার জন্য এই সড়কের উপর নির্ভরশীল। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চলাচলে বিপাকে পড়ে নতুন বন্দর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নতুন বন্দর এমএসকে-এর পড়ুয়ারাও।

এমন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি ভাঙার পর পারাপারের জন্য সাঁকো তৈরির আবেদন জানিয়ে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ সহ স্থানীয় জেলাপরিষদের সদস্যের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বাসিন্দারা। তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ। বাসিন্দাদের বক্তব্য, তাঁদের সমস্যার কথা কেউ বুঝতে চান না। একটা সাঁকোর জন্যও গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তরে যেতে যেতে তাঁরা হাঁপিয়ে উঠেছেন। সারা ভারত অগ্রগামী কিষানসভার খারিজা-২ শাখা কমিটির সম্পাদক স্থানীয়দের সমস্যার কথা শুনে তিনি ওই স্থানে সাঁকো তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। এলাকার বাসিন্দাদের সহযোগিতায় এলাকার বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাঁশ সহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র জোগাড় করে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে সাঁকোটি তৈরি করা হয়।

এ প্রসঙ্গে খারিজা বেরুবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রেবতী রায় বলেন, নতুন নিয়ম অনুযায়ী গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ এলাকায় কোনো সাঁকো তৈরি করতে পারে না। তবে ওই রাস্তাটি সংস্কারের পাশাপাশি ওই স্থানে কালভার্ট তৈরির ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের সদস্য বিধানচন্দ্র রায় বলেন, ওই স্থানে কালভার্ট নির্মাণের জন্য স্থানীয়দের আবেদন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।