চাঁদা তুলে সাঁকো তৈরি করলেন গ্রামবাসীরা

রায়গঞ্জ : মহারাজাহাটে কাঞ্চন নদীর ওপর তৈরি অ্যাপ্রোচ রোডটি বৃহস্পতিবার ভেঙে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টা পরেও ঘটনাস্থলে দেখা গেল না প্রশাসনের কোনও কর্তাকে। অস্থায়ীভাবে প্রশাসনের তরফে যাতায়াতের কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের। শুক্রবার গ্রামবাসীরা নিজেরাই চাঁদা তুলে অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো তৈরির কাজ শুরু করলেন। ব্লক প্রশাসনের ভূমিকায় গ্রামবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনিক কর্তা অথবা নির্মাণকারী সংস্থার কোনও দেখা নেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে বিপাকে পড়ছেন রোগীরা। রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অমল সরকার বলেন, আমি রায়গঞ্জ চলে যাওয়ায় ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। ফিরে গিয়ে দেখব কী হয়েছে। গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো তৈরি করছে বলে আমার জানা নেই।

স্থানীয় পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের ভূমিকায় গ্রামবাসীরা এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সুবীর সরকার, রিপন দাস, কমল দে, হারাধন দাসরা এদিন নদীতে বাঁশের মাচা তৈরি করতে নেমে পড়েন। রিপন দাস বলেন, ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছি। এখনও পর্যন্ত ঘটনাস্থলে প্রশাসন কিংবা নির্মাণকারী সংস্থার কোনও সদস্যের দেখা নেই। গ্রামবাসী ও রোগীদের কথা ভেবে আমরা নিজেরাই চাঁদা তুলে যাতায়াতের জন্য মাচা তৈরি করতে নেমে পড়েছি। সুবীর সরকার বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে আমরা আতঙ্কে রয়েছি। তার ওপর জলের স্রোতে অ্যাপ্রোচ রোড ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াতের সমস্যা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের তরফে বাঁশের সাঁকো বা নৌকার কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। ২২ থেকে ২৫ কিমি ঘুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হচ্ছে গ্রামের গর্ভবতীদের। তাই আমরা নিজেরাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে বাঁশের সাঁকো তৈরির কাজে নামতে বাধ্য হলাম।

- Advertisement -

মহারাজাহাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক উত্তম চট্টোপাধ্যায় বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সাপ্তাহিক হাট, পোস্ট অফিস, হাইস্কুল সহ প্রায় সব কিছুই নদীর ওপারে। অ্যাপ্রোচ রোডটি জলের স্রোতে ভেসে যাওয়ায় করোনা আবহে আরও বিপদে পড়ে গিয়েছেন গ্রামবাসীরা। ৭টি অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। প্রশাসন থেকে বিকল্প বাঁশের সাঁকো বা নৌকার ব্যবস্থা করা হয়নি। তাই আজ গ্রামবাসীরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে বাঁশের সাঁকো তৈরির কাজ শুরু করেছেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে কবে আসবে, বুঝতে পারছি না। বিডিও রাজু লামা বলেন, সেতু তৈরির দায়িত্বে আছে পূর্ত দপ্তর। অ্যাপ্রোচ রোডটি তারাই তৈরি করে দেবে। তারা যাতে শীঘ্রই ঘটনাস্থলে যান, তার জন্য যোগাযোগ করব।