সংস্কারের দাবিতে রাস্তা কেটে বিক্ষোভ গ্রামবাসীর

216

বালুরঘাট: চলাচলের অযোগ্য রাস্তা সংস্কারের দাবিতে রাস্তার মাঝ বরাবার কেটে গ্রামপঞ্চায়েতের সামনে বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আসে বালুরঘাট থানার পুলিশ বাহিনী। সোমবার বালুরঘাট ব্লকের জলঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের গঙ্গাসাগর এলাকার ঘটনা। এরফলে দু‘গ্রামের মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু, জনপ্রতিনিধি-প্রশাসন সকলের থেকে রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস মিলেছে। কাজ হয়নি। বাধ্য হয়েই, জেলাশাসকের হস্তক্ষেপ দাবি করে পঞ্চায়েতের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তাঁরা।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা শান্তি মন্ডল জানান, বহু বছর ধরে এই রাস্তার জন্য ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এই রাস্তাতেই বালুরঘাট ব্লকের গুপিনগর, রাধানগর এবং গঙ্গাসাগর গ্রামে যেতে হয়। বর্ষায় রাস্তা দিয়ে এলাকার পড়ুয়ারা স্কুলে যাতায়াত করতে পারে না। গ্রামবাসীরা বহুবার পঞ্চায়েত প্রধানের মাধ্যমে বিডিওর কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। সে সময় দ্রুত রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু রাস্তাটি আজও সংস্কার হয়নি।

এদিকে রাস্তা কেটে দেওয়ার ফলে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এক মোটরবাইক আরোহী রাজু বর্মন বলেন, আমার বাড়ি গুপিনগর। বাড়ি ফেরার সময় দেখছি মাঝ বরাবর রাস্তা কাটা। এই রাস্তা ছাড়া বিকল্প রাস্তাও নেই। ফলে বাড়ি ফেরা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই রাস্তা এমনিতেই চলাচলের ক্ষেত্রে ভয়ংকর। তারপরে এখন কেটে দেওয়ার ফলে গ্রামবাসীদের চলাচল বিঘ্নিত হল। খুব দ্রুত এখানে পাকা রাস্তা করে দেওয়া উচিত।

জলঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গোপাল মুর্মু বলেন, রাস্তা নির্মাণের জন্য আমরা গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরের সমস্ত প্রক্রিয়া নিয়মমাফিক সম্পন্ন করেছি। রাস্তা তৈরি করার জন্য টেন্ডার পাস করতে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ব্লক স্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বিডিও এখনও টেন্ডার পাস করেননি। ব্লক স্তর থেকে অনুমোদন না পাওয়া গেলে রাস্তার কাজে হাত লাগানো যাবে না। গ্রামবাসীরা রাস্তা কেটে বিক্ষোভ দেখানোর জেরে দুই গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। আমরা আপাতত রাস্তাটি অস্থায়ীভাবে সারাই করে যোগাযোগের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা করছি।

জলঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন আরএসপি প্রধান বাদল সিংহ জানান, গঙ্গাসাগর এলাকার ওই রাস্তার সমস্যা দীর্ঘদিনের। বিগত পাঁচ বছর ধরে গ্রামবাসীরা বর্ষায় ওই রাস্তার জন্য সমস্যায় জর্জরিত হয়ে রয়েছেন। আমরা ক্ষমতায় থাকাকালীন যথেষ্ট পরিমাণে অর্থ বরাদ্দ ছিল না বলেই রাস্তাটা সম্পূর্ণ করা হয়নি। যদিও পরে পঞ্চায়েত সমিতির তরফে ওই এলাকার অর্ধেক রাস্তা করে বাকি রাস্তা অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়া হয়েছে। যার জেরে এলাকার বাসিন্দারা সমস্যায় পড়ছেন। পঞ্চায়েত সমিতি তারপরে কোন হেলদোল লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।