খড়ের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে ধান গাছ কেটে দিচ্ছেন গ্রামবাসী

450

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা : গবাদি প্রাণীর প্রাকৃতিক খাদ্যের আকাল দেখা দিয়েছে অনেক জায়গাতেই। আবার গবাদি প্রাণীর জন্য দোকান থেকে খাবার কিনবেন, তেমন আর্থিক সামর্থ্য অনেকেরই নেই। তাই বিনা পারিশ্রমিকে ধান কেটে দিয়ে আঁটিগুলি গবাদি প্রাণীদের খাওয়ানোর জন্য নিয়ে যাচ্ছেন গ্রামবাসী। আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট-বীরপাড়া ও ফালাকাটা ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় এমন দৃশ্যই দেখা যাচ্ছে। এতে ধানখেতের মালিকও লাভবান হচ্ছেন। কারণ, ধান গাছ কেটে ধান ঝাড়াই করার পারিশ্রমিক বাবদ টাকা খরচ হচ্ছে না তাঁর। গ্রামবাসীরা জানান, এ বছর প্রাকৃতিক খামখেয়ালিপনায় গবাদি প্রাণীর প্রাকৃতিক খাদ্যের আকাল দেখা দিয়েছে। তাই এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

মাদারিহাটের কোণাপাড়া গ্রামে এক ব্যক্তির জমির ধান কাটতে দেখা গেল বিপুল আলম নামে এক যুবককে। তিনি বলেন, গত বছরও ধান ঝাড়াই করে নেওয়া এক-একটি আঁটির দাম ছিল গড়পড়তা দেড় টাকা। কিন্তু এ বছর এক-একটি আঁটির দাম দাঁড়িয়েছে দশ টাকা। অত দাম দিয়ে খড়ের আঁটি কিনে গোরুকে খাওয়ানোর সাধ্য আমাদের নেই। তাই বিনা পারিশ্রমিকে অন্যের জমির ধান কেটে দিচ্ছি। ঝাড়াই করা ধান মালিক পাবেন। আমরা পাব খড়। অন্যর জমিতে দান কাটতে দেখা গিয়েছে গোব্বাস আলি, তহিদুল হক, মহম্মদ আব্দুলদেরও। তহিদুল বলেন, এ বছর গোরুকে খাওয়ানোর মতো ঘাস মিলছে না। ফাঁকা নীচু জমিগুলিতে দিনের পর দিন জল জমে থাকার ফলে নষ্ট হয়ে গিয়েছে ঘাস। আবার নদীর জল বারবার উপচে আশপাশের এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়ায় পলি চাপা পড়ে গিয়েছে ঘাসজমিগুলি। গবাদি প্রাণীর খাবার বলতে ভরসা একমাত্র ধান ঝাড়াইয়ের পর খড়ের আঁটি। কিন্তু খড়ের এত দাম যে তা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে কিনে গোরুকে খাওয়ানো সম্ভব নয়। দক্ষিণ খয়েরবাড়ি গ্রামের কৃষক আবু বকর বলেন, সবে ধান কাটার মরশুম শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ জমির ধান এখনও কাঁচা রয়েছে। তবে ধান পাকার মরশুমে অনেক সময় শ্রমিক পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। এদিকে, গবাদি প্রাণীর খাদ্য জোগাড়ে কেউ বিনা পারিশ্রমিকে ধান কেটে দিতে রাজি হলে তো ভালোই। ইসলামাবাদ গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, গত বছর দেড় টাকা থেকে সর্বাধিক তিন টাকা পর্যন্ত এক-একটি খড়ের আঁটি গবাদি প্রাণীর খাদ্য হিসাবে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এ বছর সর্বাধিক পনেরো টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে এক একটি আঁটি। কারণ এলাকার গবাদি প্রাণীর সংখ্যার নিরিখে খড় বা ধানের আঁটি মজুত করা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই খড়ের আঁটির দাম বেড়ে গিয়েছে।

- Advertisement -

ফালাকাটা ব্লকের দক্ষিণ দেওগাঁওয়ের বাসিন্দা আশরাফুল হোসেন বলেন, পাঁচ মাইল হাট সহ দেওগাঁওয়ে কোনও হাটেই খড়ের আঁটি সাত-আট টাকার কমে বিক্রি হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে গবির মানুষরা অন্যের জমিতে বিনা পারিশ্রমিকে ধান কেটে ধানগুলি ঝেড়ে জমির মালিককে দিয়ে খড়ের আঁটিগুলি গবাদি প্রাণীকে খাওয়ানোর জন্য সংগ্রহ করছেন।