রহস্যময় বাড়িকে ঘরে বাড়ছে আতঙ্ক, আসিফের ফাঁসির দাবিতে সুর চড়ছে ১৬ মাইলে

201

বৈষ্ণবনগর: কালিয়াচক খুন কাণ্ডে একদিকে যখন রহস্যের পরত উন্মোচন করে খুনের কারণ জানতে মরিয়া পুলিশ কর্তারা ঠিক সেময়ই ১৬ মাইলের ওই বাড়িকে ঘিরে আঙ্কত বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই গা ছম-ছম পরিবেশ গ্রাস করছে ওই বাড়িকে কেন্দ্র করে। এই পরিস্থিতিতে রাতে বাড়ির বাইরে পা রাখতে সাহস করে উঠতে পারছেন না কেউই। যদিও দিনের আলোয় রহস্যময় ওই বাড়ির চর্তুদিকে ভীড় জমছে কৌতুহলী মানুষের।

বাবা, মা, বোন এবং ঠাকুমাকে খুন কাণ্ডে ইতিমধ্যে মূল অভিযুক্ত আসিফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, ঘটনার তদন্তে গতি আসতেই পুলিশের জালে ধরা পড়ে ধৃতের দুই বন্ধুও। উদ্ধার হয়েছে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র, ম্যাগাজিন, কার্তুজ সহ ইলেকট্রনিক গ্যাজেটও। হয়েছে খুনের ঘটনার পুনর্নিমাণ। পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন অতিদ্রুত খুনের ঘটনায় চার্জশীট পেশ করা হবে। এই পরিস্থিতিতে এবার পরিবারের চার সদস্যকে খুনে অভিযুক্ত আসিফের ফাঁসির দাঁবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, যে পরিবারের লোকেদের খুন করতে পারে, সে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে প্রতিবেশীদেও প্রাণ নিতে পারে। সেক্ষেত্রে এমন ছেলের ফাঁসির সাঁজা হওয়া প্রয়োজন।

- Advertisement -

স্থানীয় সূত্রে খবর, রহস্যময় ওই বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে বহিরাগত শ্রমিকদের কাজে লাগানো হয়েছিল। তবে, দিন দুই বাদেই শ্রমিক বদলে দেওয়া হত। প্রথমে কোনও কৌতুহল না হলেও ক্রমেই আতঙ্ক বাড়ছে ওই বাড়িকে ঘিরে। স্থানীয় গুলশান দেওয়া বলেন, ‘কে জানত যে আসিফ নিজের বাবা-মা-বোন-ঠাকুমাকে খুন করে বাড়ির ভেতরেই পুঁতে রাখবে। হয়তো সেই কারণের পরিকল্পনা করেই বাড়িটি তৈরি করা হয়েছিল।’ অপর এক বাসিন্দা আবু তাহেরের আশঙ্কা ওই বাড়িটি মানুষ খুনের জন্য়েই তৈরি হয়েছিল। পরিবারের সদস্যদের খুনের পর হয়তো গ্রামের সাধারণ মানুশের প্রাণ নিত ওই তরুণ। স্বাভাবিকভাবেই সকলেই আতঙ্কে। ঘটনাপ্রসঙ্গে আবু তাহেরের বক্তব্য, এমন অপরাধীর ফাঁসি দেওয়া হোক।

বীরনগর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মনু ঘোষ বলেন, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রামের সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। পরিবারের চার সদস্যকে খুনের অপরাধে তার(আসিফের) ফাঁসি হওয়া উচিত। পরবর্তীতে কেউ যেন এরকম অপরাধ করতে সাহস না পায়।’