বেহাল রাস্তা, গ্রামে বিয়ের সম্বন্ধ আসে না

বরুণ মজুমদার, ডালখোলা : বেহাল রাস্তার কারণেই বিয়ের জন্য অন্য জায়গার ভালো পাত্রের পরিবার আসে না। পুরাতন শিমুলিয়া গ্রামের কন্যাশ্রীরা তাই প্রশাসনের কাছে কাতর আর্জি জানিয়েছেন। পুরাতন শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ভালো রাস্তা তৈরির দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের দাবি এখনও পূরণ হয়নি। ভোটের আগে প্রতিটি রাজনৈতিক দল রাস্তা তৈরির আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বর্ষায় নৌকায় করে যাতায়াত করতে হয় ডালখোলা থানার গোয়ালপোখর-২ ব্লকের সূর্যাপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের পুরাতন শিমুলিয়ার প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দাকে। স্থানীয় বাসিন্দা রেজ্জাক, শাহাবুদ্দিনরা জানান, শিমুলিয়া গ্রামের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় আড়াই কিলোমিটার। মহানন্দা নদীর করাল গ্রাসে গ্রামের এক-তৃতীযাংশ নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। ভাঙনের ফলে গ্রাম থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে গড়ে উঠেছে আরও একটি গ্রাম নতুন শিমুলিয়া। তাঁরা বলেন, এই গ্রামের প্রসবযন্ত্রণায় কাতর মহিলাদের খাটিয়া করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। রাস্তার অবস্থা এমনই খারাপ যে, গাড়ি চলাচল করতে পারে না।

সূর্যাপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যা আঙ্গুসতারি বেগম বলেন, পুরাতন শিমুলিয়া গ্রামের রাস্তা এতটাই খারাপ যে, এখানকার ছেলেমেয়েদের জন্য ভালো পাত্রপাত্রী পাওয়া যায় না। বাইরের গ্রামের লোকজন তাঁদের ছেলেমেয়েদের পুরাতন শিমুলিয়া গ্রামে বিয়ে দিতে চান না। তিনি বলেন, প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এই গ্রামে রাস্তা তৈরি হচ্ছে না। স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী গোলাম রব্বানি বলেন, গ্রামে ঢোকার জন্য অর্ধেক সময় জুতো হাতে করেই চলাচল করতে হয়। বর্তমানেও অবস্থার কোনও উন্নয়ন হয়নি। সূর্যাপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সাহারা বেগম পুরাতন শিমুলিয়া গ্রামের রাস্তার বেহাল দশার কথা স্বীকার করে বলেন, প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের বরাদ্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের নেই। মহানন্দা নদীর তীরে শিমুলিয়া গ্রাম। পাকা রাস্তা করার পাশাপাশি রাস্তার দুই ধারে বোল্ডার দিয়ে বাঁধ দিলেই রাস্তা থাকবে। তা না হলে রাস্তা বন্যার জলের তোড়ে ভেসে যাবে। উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের সদস্যা নিখাত পারভিন বলেন, পুরাতন শিমুলিয়া গ্রাম থেকে কাশিয়া ডাইটন হয়ে একটি রাস্তা তৈরির জন্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

- Advertisement -