হেমতাবাদ : পঞ্চায়েতে আবেদন জানিয়ে লাভ হয়নি। তাই চাঁদা তুলে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা মেরামত করলেন হেমতাবাদের সোনাবান নতুনপাড়ার বাসিন্দারা। হেমতাবাদ ৪ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সোনাবান নতুনপাড়ায় বেশ কিছু স্কুলশিক্ষক ও কৃষিজীবী পরিবারের বাস। বছর ১০ হল এই নতুনপাড়া গড়ে উঠেছে। গত ৫ দিন ধরে এলাকার বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে মাটি ফেলে রাস্তা উঁচু করছেন। এই কাজে আনুমানিক ৩৫ হাজার টাকার মাটি কিনতে হয়েছে। এই টাকা জোগার করা হয়েছে চাঁদা তুলে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চলাচলের উপযুক্ত করতে এই রাস্তায় আরও মাটি দরকার। সেই সঙ্গে সিমেন্ট ঢালাই রাস্তা গড়ে দিক পঞ্চায়েত। উপপ্রধান নারায়ণ দাস জানান, এই রাস্তা পঞ্চায়েতের নথিভুক্ত নয়। নীচু জমি কিনে এই মহল্লায় বসতি গড়ে তোলার পর রাস্তা নিয়ম মেনে পঞ্চায়েতে রেকর্ড করানোর কোনো আবেদন তাদের সময়ে আসেনি। তবে আগে এই আবেদন হয়েছিল কিনা সেটা জানা নেই। মানুষের সমস্যা মেটানো পঞ্চায়েতের দায়িত্ব। অবশ্যই এই রাস্তা নিয়ে পঞ্চায়েতের তরফে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এই রাস্তা পঞ্চায়েতে নথিভুক্ত করে তা ঢালাই করে দেওয়া হবে। হেমতাবাদ পঞ্চায়েতের সঞ্চালক আশরাফুল আলি এই রাস্তার সমস্যা মেটাতে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার সকালে হাতে কোদাল নিয়ে হেমতাবাদের সোনাবান নতুনপাড়ার যাওয়ার রাস্তা মেরামতে হাত দেওয়া বাসিন্দা গজেন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, এর আগে পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছিল এই রাস্তা নিয়ে কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই চলাচলের কষ্ট দূর করতে পাড়ার সমস্ত বাসিন্দা মিলে মাটি কিনে এনে রাস্তা চলাচলের যোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছি। পেশায় স্কুলশিক্ষক পরেশচন্দ্র রায় বলেন, কাঁচা মাটির এই রাস্তা অত্যন্ত নীচু হওয়াতে সামান্য বৃষ্টিতে জল জমে যায়। বর্ষার সময় এমন অবস্থা হয় যে বাইক নিয়ে চলাচল করা যায় না। সে সময় বাইক অন্যত্র রেখে পাড়ায় আসতে হয় জল পেরিয়ে। আমরা সকলে অর্থ এবং স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে এই রাস্তা মেরামত শুরু করেছি। আশা করছি পঞ্চায়েত এগিয়ে আসবে তাদের সমস্যা জেনে। এই রাস্তা ঢালাই করে দিলে ভালো হয় বলছেন পরেশবাবু সহ নতুনপাড়ার বাসিন্দারা।