প্রশাসন পারেনি, স্বেচ্ছাশ্রমে সাঁকো বানালেন মহিষচরুবাসী

নয়ারহাট : প্রশাসনের কর্তারা ও জনপ্রতিনিধিরা যা পারেননি, সেটাই করে দেখিয়েছেন মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের কুর্শামারি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মহিষচরু গ্রামের বাসিন্দারা। নিজেদের অর্থে এবং দেড় মাস পরিশ্রম করে স্থানীয় নেন্দা নদীতে পাকা খুঁটির উপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বঞ্চনার জবাব দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের বিশ্বাস, বর্ষায় অন্তত সাঁকোর খুঁটি ভেসে যাবে না। নদীপারাপারে কিছুটা হলেও ভোগান্তি কমায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা দেবেন্দ্র বর্মন, দোমাসু বর্মন, সন্তোষ বর্মন, জিতেন বর্মনরা। অনেকেই বলেছেন এধরনের উদ্যোগ সচরাচর চোখে পড়ে না। বাসিন্দাদের এই বেনজির কাজের প্রশংসা করেছে প্রশাসনও।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন কেটে গিয়েছে, কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। দশকের পর দশক ধরে এই নদীতে সাঁকোর স্থলে পাকা সেতুর দাবি উঠেছে। কিন্তু কোনো সরকারই সেতু তৈরির ব্যাপারে সদিচ্ছা দেখায়নি। পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের আমলেও সেতু তৈরির আশ্বাস মিলেছিল। বর্তমান সরকারের জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকেও একাধিকবার আশ্বাস মিলেছে। এমনকি সেতু তৈরির জন্য এলাকা পরিদর্শনও করা হয়েছিল। কিন্তু কাজ হয়নি। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া আশ্বাস কার্যত ফাঁকা আওয়াজে পরিণত হয়েছে। বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, সেতু তৈরি দূরের কথা, গত কয়েক বছরে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো সংস্কারেও সদিচ্ছা দেখায়নি সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ।

- Advertisement -

এ ব্যাপারে উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের শাসকদলের নেতাদের বিরুদ্ধেও। সাঁকো সংস্কার না হওয়ায় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন। বিশেষ করে প্রতি বর্ষায় জলের তোড়ে খুঁটি সহ সাঁকো ভেসে যেত। তখন কার্যত গৃহবন্দি পরিস্থিতির শিকার হতেন তাঁরা। স্থানীয় প্রশাসনকে সমস্যার ব্যাপারে অবহিত করা হলেও তারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। তাই বাধ্য হয়ে নিজেরাই গাঁটের কড়ি খরচ করে দেড় মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করে পাকা খুঁটির উপর সাঁকোটি তৈরি করেছেন। ১২টি খুঁটির উপর এই সাঁকোটি তৈরি করতে লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান তাঁরা।

এই সাঁকোর উপর বেশ কয়ে হাজার মানুষ নির্ভরশীল। এই সাঁকো পেরিয়ে তাঁরা ময়নাতলি বাজার, কুর্শামারি বাজার, গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস, বিডিও অফিস, মাথাভাঙ্গা শহর সহ অন্যত্র যাতায়াত করেন। এলাকার পড়ুযারাও স্কুল-কলেজে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই সাঁকোর উপর নির্ভর করে। গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে অনেক আগেই এই সাঁকোর স্থলে পাকা সেতু তৈরি হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করছেন বাসিন্দারা। তা না হওয়ায় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উপর বেজায় ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ। আর এই ক্ষোভেই পাকা খুঁটির উপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করে তাঁদের প্রতি বঞ্চনা ও অবহেলার জবাব দিলেন তাঁরা।

এ ব্যাপারে তৃণমূলের কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যাযনি। ফোন না তোলায় প্রতিক্রিয়া মেলেনি এলাকার জেলাপরিষদ সদস্য ধনীরাম অধিকারীর। তবে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রশাসক তথা স্থানীয় বিডিও সম্বল ঝা বাসিন্দাদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, পাকা খুঁটির উপর সাঁকো তৈরি করে নিঃসন্দেহে স্থানীয়া বাসিন্দারা নজির সৃষ্টি করেছেন।