পুজোর জন্য বছরভর চাল জমান ছোট ফলিমারি গ্রামের বাসিন্দারা

370

কৌশিক সরকার, দিনহাটা : সাড়ে তিনশো বছরের পুরোনো জমিদারবাড়ির দুর্গামন্দির আজ প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত। ১৯৬৮ সালের পর সেখানে বহুবছর পুজোর আয়োজন হয়নি। চারবছর আগে উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এ এই সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়। তারপর গ্রামের বাসিন্দারা ফের পুজোর আয়োজনে উদ্যোগী হন। সাবেক জমিদার পরিবারের সদস্যদের একাংশও সহয়োগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এরপর থেকে সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই দুর্গার আরাধনা করছেন দিনহাটার ছোট ফলিমারি গ্রামের মানুষ। জমিদার আমলের জাঁকজমক, আড়ম্বর হারালেও আজও পুরনো আমলের প্রথা মেনে দেবীর আরাধনা করেন তাঁরা। পুজোর জন্য গ্রামের প্রায় চল্লিশটি পরিবার মুঠো করে চাল কিংবা উত্পাদিত অন্য কৃষিজ পণ্য বছরভর আলাদা করে সরিয়ে রাখে। এভাবে  প্রাচীন মন্দিরে ফের শুরু হয়েছে দশভুজার আরাধনা। প্রাচীন মন্দির সাফাই করে দেবীর আরাধনার তোড়জোড় শুরু হয়েছে ওই গ্রামে।

১৬৬৫ সালে তদানীন্তন কোচবিহার রাজার আমন্ত্রণে ঢাকার নবাবের দরবার ছেড়ে জনৈক রূপচন্দ্র মজুমদার কোচবিহার রাজ্যে কাজে যোগ দেন। তিনি মুস্তফি উপাধি লাভ করেন। পরে দিনহাটার ভিতরকুঠি গ্রামে জমিদারিও লাভ করেন। সেখানে  কোচবিহার রাজবাড়ির অনুকরণে দেবীবন্দনার সূচনা হয়। জমিদার পরিবারের সদস্য সিতাংশুশেখর মুস্তফি জানান, তাঁর পূর্বপুরুষরা পরবর্তীকালে ওই গ্রাম ছেড়ে গোবরাছড়া সংলগ্ন ছোট ফলিমারি গ্রামে চলে আসেন। সেখানে তাঁদের উদ্যোগে বিশাল দুর্গামন্দির তৈরি হয়। সেখানে কয়েক শতাব্দী ধরে জাঁকজমক সহকারে দুর্গাপুজো করা হয়। সেই সময় পুজো উপলক্ষ্যে মেলাও বসত। আশপাশের এলাকার লোকও সেখানে অংশ নিতেন। ১৯৬৮ পর্যন্ত ওই প্রাচীন মন্দিরে পুজো করা হয়। বর্তমান পুজো উদ্যোক্তাদের পক্ষে মিলন রায়, বিশ্বনাথ বর্মন, চন্দন  দত্ত প্রমুখ জানান, গ্রামের বাসিন্দারা প্রাচীন মন্দিরে আবার নতুন করে পুজো শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি, এ ব্যাপারে উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এর  ভূমিকার কথাও তাঁরা উল্লেখ করতে ভোলেননি। স্থানীয় বাসিন্দা আরতি বর্মন, ফুলেশ্বরী রায়, চিনিবালা বর্মন প্রমুখ জানান, এই পুজোর জন্য তাঁরা বছরভর চাল এবং অন্য ফসল বাড়িতে জমা করে রাখেন। নতুন করে পুজো শুরুর পর গ্রামে উত্সবের আনন্দ কয়েগুণ বেড়ে গিয়েছে। প্রাচীন মন্দিরে আবারও ধূপের ধোঁয়া, প্রদীপের আলো এবং ঢাকের শব্দে দেবীর আরাধনা শুরু হওয়ায় খুশি সিতাংশুশেখরবাবুরাও।

- Advertisement -