এবারও নদী পেরিয়ে ভোট দেবে ডোববাড়ি

121

ময়নাগুড়ি : নদী ও জঙ্গলের দীর্ঘপথ পেরোলে তবে যাওয়া যাবে ভোটকেন্দ্রে। আবার সূর্যাস্তের আগে ফিরেও আসতে হবে গ্রামে। কারণ জঙ্গলের পথে দাঁড়িয়ে থাকে হাতি, বাইসনের মতো বন্যপ্রাণীরা। এই পরিস্থিতিতেই এবার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাবেন পূর্ব ডোববাড়ির বাসিন্দারা।

গরুমারা জঙ্গল লাগোয়া ময়নাগুড়ি ব্লকের রামশাই গ্রাম পঞ্চায়েত। এই রামশাই এলাকার অধীনে ধূপগুড়ি ব্লকের গা ঘেঁষে রয়েছে পূর্ব ডোববাড়ি গ্রাম। সেই গ্রামে বসবাস ২৬টি পরিবারের। এটি ময়নাগুড়ি ব্লকের অন্তর্ভুক্ত। তবে, প্রশাসনিক কাজ বাদে যাবতীয় ব্যাপারে নির্ভর করতে হয় ধূপগুড়ি ব্লকের নাথুয়ার ওপর।

- Advertisement -

এর পাশাপাশি ভোট দিতে প্রতিবারই আসতে হয় রামশাইয়ে। এবারও ওই গ্রামের ২৬টি পরিবারকে জঙ্গল সহ মূর্তি, ডায়না, জলঢাকা, বারোহাতি নদী পারাপার করে সাড়ে চার কিমি পথে ঝুঁকি বয়ে ভোট দিতে আসতে হবে। এত কষ্টেও যেন বিন্দুমাত্র অনীহা নেই তাঁদের। গ্রামের বছর সত্তরের প্রবীণ বাসিন্দা ভবানন্দ রায় বলেন, সারাবছর জঙ্গল ঘেঁষা এলাকায় হাতি, গন্ডার, বাইসনের সঙ্গেই কাটিয়ে দিতে হয়। বিগত বছরগুলিতেও এভাবেই নদী ও জঙ্গল পথ পেরিয়ে ভোট দিতে হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, বর্ষার সময় এই পথ দিয়ে রামশাইয়ে আসা অসম্ভব। সেসময় ধূপগুড়ি হয়ে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার ঘুরে ময়নাগুড়িতে যাতায়াত করতে হয়। এবারে ভোট দিতেও এভাবেই যাতায়াত করতে হবে। তবে নদীর জল বেড়ে গেলে এই পথে আসা অসম্ভব হবে। কারণ এই সময়ে নদীপথে নৌকাও নেই। বিকেলের আগে ফিরে না এলে হাতি, গন্ডার, বাইসনের দলের মুখোমুখি হতে হবে বাসিন্দাদের। প্রশাসনের তরফে যাতায়াতের বন্দোবস্ত করা হলে উপকৃত হবেন বলে বাসিন্দাদের বক্তব্য।

স্থানীয়দের আরও বক্তব্য, এলাকায় নেই কোনও স্কুল বা শিশুশিক্ষাকেন্দ্র। পানীয় জলের সমস্যাও রয়েছে এখানে। রাস্তাঘাটও বেহাল। প্রায় চার কিলোমিটার দূরে বাজার এবং  স্কুলে যেতে হয় তাঁদের। এর আগে প্রশাসনের কর্তারা ওই গ্রাম পরিদর্শনে এলে গ্রামটিকে ধূপগুড়ি ব্লকের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও এত বছরেও সমাধান হয়নি।

এ ব্যাপারে ধূপগুড়ির বিদায়ি বিধায়ক মিতালি রায় বলেন, ওই এলাকাটি ময়নাগুড়ি ব্লকের শেষ সীমানা। ২৬টি পরিবারের সেখানে বসবাস। ওঁরা ময়নাগুড়ি ব্লকের অন্তর্ভুক্ত হলেও আমি ওই পরিবারগুলির পাশে থাকার চেষ্টা করি। মৌজা পরিবর্তন অনেকটাই কঠিন বিষয়। তবুও বিষয়টি প্রশাসনের ওপরমহলে জানিয়েছি।  রামশাই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রত্নেশ্বর রায় বলেন, বেশ কিছু পরিবার ওই এলাকায় বসবাস করে। তাদের সহযোগিতার জন্য আমরা সবসময় পাশে থাকি। সমস্যা নিয়ে ওপরমহলে ফের জানানো হবে।