বর্ষায় বেহাল রাস্তা নিয়ে তিলেরডাঙ্গায় ভোগান্তি

335

নীরেন্দ্রনারায়ণ দাশ,  শামুকতলা : আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের ভাটিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের তিলেরডাঙ্গা বাজার থেকে পশ্চিম খলিসামারি পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তা অনেকদিন থেকেই বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে। রাস্তাটি জেলা পরিষদের। প্রায় দেড় দশক থেকে এর কোনও সংস্কার হয়নি। বেহাল রাস্তার অধিকাংশ জায়গায় পিচ ও পাথরের কোনও অস্তিত্ব নেই। বড় বড় গর্ত হয়ে রয়েছে। একটু বৃষ্টি হলে গর্তগুলোয় জল জমে ডোবার রূপ নেয়। এই রাস্তার জন্য খুবই সমস্যায় পড়েছেন ভাটিবাড়ি ও মহাকালগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েক হাজার মানুষ। তাঁদের দাবি, রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা হোক।

ভাটিবাড়ি ও পারোকাটা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ ওই রাস্তা দিয়ে খাপসাডাঙ্গা বাজার এবং চেপানিহল্ট দিয়ে শামুকতলা বাজারে যাতায়াত করেন। অপরদিকে মহাকালগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের চেপানি, পশ্চিম চেপানি গ্রামের বাসিন্দারা চিকলিগুড়ি ও ভাটিবাড়ি বাজারে যাওয়ার জন্য এই রাস্তা ব্যবহার করেন। রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হওয়ায় তাঁরাও সমস্যায় পড়েছেন। এই রাস্তার পাশে ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি এমএসকে, ৪টি আইসিডিএস সেন্টার আছে। রাস্তাটি বেহাল থাকায় সমস্যায় পড়েছে ছাত্রছাত্রী থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। এই রাস্তার উপর নির্ভরশীল গ্রামবাসীরা বেশ কয়েকবার আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের কাছে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েছিলেন, কিন্তু কোনও কাজ হয়নি।

- Advertisement -

উত্তর চিকলিগুড়ির প্রিয়কুমার দাস বলেন, রাস্তা খারাপ হওয়ার জন্য কোনও অটো বা গাড়ি চলে না, বর্ষাকালে সাইকেল বা বাইক নিয়ে চলাচল করতেও খুব অসুবিধা হয়। গ্রামে কেউ অসুস্থ হলে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অপর এক বাসিন্দা পরমেশ দাস বলেন, রাস্তার এই বেহাল দশার জন্য কৃষক, ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী সকলেই সমস্যায় পড়েছেন। দ্রুত এই রাস্তা সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি। পালপাড়ার ব্যবসায়ী কৃষ্ণ সরকার অভিযোগ করেন, রাস্তা খারাপ হওয়ার জন্য বাইরে থেকে মাল আনতে খুব অসুবিধা হয়। আশেপাশের মানুষও মাল কিনতে এখানে আসেন না। ফলে ব্যবসার খুব ক্ষতি হচ্ছে। উত্তর চিকলিগুড়ির বাসিন্দা ও বিজেপির ৫ নম্বর মণ্ডল সম্পাদক মতিলাল বর্মন বলেন, প্রায় ১৮ বছর ধরে এই রাস্তাটি বেহাল। বাম জমানায় এই রাস্তাটির কাজ হয়েছিল। তৃণমূল জমানায় আর কেউ রাস্তার দিকে তাকিয়ে দেখেননি। ছাত্রছাত্রী ও রোগীরা খুব সমস্যায় পড়ছে। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার না হলে আমরা আন্দোলনে নামব।

আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি ও জেলা পরিষদের বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ দেবজিৎ সরকার বলেন, বাংলা সড়ক যোজনায় রাস্তাটির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। জেলা পরিষদের উদ্যোগে দ্রুত এর কাজ শুরু হবে। এলাকার জেলা পরিষদের সদস্য অর্চিতা কোঙার মণ্ডল বলেন, আগের জেলা পরিষদের আমলের কথা বলতে পারব না। কিন্তু দুই বছর আগে আমি নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর ও বাংলা সড়ক যোজনায় রাস্তা সংস্কারের প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আর্থিক অনুদান পেলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। একই কথা বলেছেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি শীলা দাসসরকার।