সেতু ভেঙে সমস্যায় দুই গ্রামের বাসিন্দারা

313

শুভদীপ শর্মা, ময়নাগুড়ি : গ্রামে ঢোকার একমাত্র সেতু ভেঙে গিয়েছে কয়েক বছর আগে। সেতুর পাশাপাশি গ্রামে প্রবেশের একমাত্র কাঁচা রাস্তাটিও বেহাল। প্রতিবার নির্বাচনের আগে নতুন সেতু ও রাস্তা পাকা হওয়ার আশ্বাস মিললেও আজও ভাঙা সেতু ও কাঁচা রাস্তা দিয়ে ময়নাগুড়ি ও আমগুড়ি যাতায়াত করছেন বাংলার ঝাড় ও বড়গিলা গ্রামের প্রায় কুড়ি হাজার বাসিন্দা। ভাঙা সেতু দিয়ে যাতায়াতের ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। যদিও জেলা পরিষদের তরফে বর্ষার পরই এলাকায় সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ময়নাগুড়ি ব্লকের বাংলার ঝাড় ও বড়গিলা গ্রামের রাস্তায় আমতলার পাকা সেতুটি সাত বছর আগে ভেঙে গিয়েছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, একটি আলুবোঝাই ট্রাক যাওয়ার সময় সেতুটি ভেঙে যায়। তারপর থেকে সেতুটি সংস্কারের আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাংলার ঝাড় ও বড়গিলা গ্রামদুটি কৃষিপ্রধান। বাসিন্দারা উৎপাদিত কৃষিপণ্য ময়নাগুড়ি ও আমগুড়ির বিভিন্ন হাট ও বাজারে নিয়ে যেতে এই সেতুর ওপরেই ভরসা করেন। এছাড়া দুই গ্রামের ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে যেতে, রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতেও ওই ভাঙা সেতুর ওপর ভরসা করতে হয়।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল আহমেদ, জাহিদুল ইসলাম, সামিউল ইসলামরা অভিযোগ করেন, গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ব্লক প্রশাসনের কাছে এই সেতু ও পাকা রাস্তার দাবি জানানো হলেও লাভ কিছুই হয়নি। ভাঙা সেতু দিয়ে প্রতিদিন ছোটো গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াত করছে। যেকোনো সময় সেতুটি পুরোপুরি ভেঙে বড়ো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যে কোনো নির্বাচনের সময় সেতু ও পাকা রাস্তা তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার করেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। কিন্তু নির্বাচন পার হলেই কেউ মনে রাখে না। লোকসভা নির্বাচনের আগেও সেতু তৈরি হবে বলে বালি ফেলা হয়েছিল, কিন্তু কাজ শুরু হয়নি। যদিও স্থানীয় জেলাপরিষদ সদস্য গোবিন্দ রায় বলেন, কয়ে মাস আগে ওই এলাকায় সেতু নির্মাণের অনুমতি মিলেছে। তবে নির্বাচনের জন্য সেই সময় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, এলাকায় সেতু তৈরি করতে গেলে পাশে একটি অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করতে হয়। বর্ষার জন্য যা করা সম্ভব নয়। তাই বর্ষা শেষ হলেই সেতুটি নির্মাণ করা হবে। গোবিন্দ রায় জানান, সেতু তৈরির পর রাস্তাটিও পাকা করার চেষ্টা করা হবে।