ভোট বাতাস স্পর্শ করে না হেমতাবাদ ব্লকের ১২টি গ্রামের বাসিন্দাদের

105

হেমতাবাদ: মাঠে কাজ করতে ব্যস্ত হেমতাবাদ ব্লকের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা। কেউ আবার ঘরদোরের সাফসুতরো করতে ব্যস্ত, অথচ ভোটের কথা বলতেই মানুষগুলোর চোখমুখ কেমন যেন হয়ে যায়। কিন্তু ভোট যে দেন না, এমন নয়। তবুও যেন বড্ড অভিমানী তাঁরা। কেউ জমিতে গিয়ে সরিষা কাটতে ব্যস্ত, কেউ আবার ধানের বীজ বপন করছেন। বাড়ির ছোট থেকে বড় সবাই এখন মাঠের কাজেই ব্যস্ত। কিন্তু ভোটের ব্যাপারে তাঁরা নির্বিকার।

হেমতাবাদ ব্লকের ভাসিরাঙ্গা, শীতলপুর, টিটিহি, কাটাবাড়ি, মহদমবাড়ি, হাড়িপাড়া, বুলকুগুন্ডি সহ একাধিক গ্রামের প্রায় ১৬ হাজার মানুষের মধ্যে অধিকাংশই কামতাপুরী ভাষায় কথা বলেন। আলাদা সংস্কৃতির মানুষ তাঁরা। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই সমস্ত গ্রামে কোনও উন্নতি নেই। প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তা কাঁচা। বর্ষার সময় চলাচলের অযোগ্য। রাস্তার দুই ধারে রকমারি গাছগাছালি। সেই রাস্তা দিয়ে একা চলার উপায় নেই। স্কুল-কলেজে গেলে ঘুরপথে ২২ কিলোমিটার। অনেকে মাঝপথেই পড়া ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। অধিকাংশ পরিবারের রোজগারের উৎস কৃষিকাজ। ইদানিং হাতেগোনা কয়েকজন প্রথম প্রজন্মের ছেলেমেয়ে চাকরি পেয়েছেন। কিন্তু এই সমস্ত গ্রামের ভাগ্য বদল হয়নি। দিনযাপনের হাল বদলাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে পানীয় জল ন্যূনতম পরিষেবা থেকে বঞ্চিত কয়েক হাজার গ্রামের বাসিন্দারা। তাই ভোটে উৎসাহ নেই এই সমস্ত গ্রামগুলির মানুষের। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই রাস্তার জন্য আন্দোলন করে চলেছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই আমাদের এই সমস্ত গ্রামে ভোট বাতাস স্পর্শ করে না।’ এক মাঝ বয়সি যুবকের কথায়, বাঘরোল ঘাট থেকে টিটিহি পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার রাস্তা পাকা হলে গ্রামের মানুষদের জীবনযাত্রাই পালটে যেত।

- Advertisement -

হেমতাবাদের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেখর রায় বলেন, ‘ওই মাটির রাস্তা সংস্কারের জন্য জেলা পরিষদকে বলা হয়েছে।’ জেলা পরিষদের সভাধিপতি কবিতা বর্মন বলেন, ‘ওই সমস্ত গ্রামে পাকা রাস্তা ও পানীয় জলের দাবি রয়েছে। জেলা পরিষদের তরফে মাস ছয়েক আগে পরিদর্শন করা হয়েছে। ডিপিআর তৈরি করা হয়েছে।’